কবি জামাল হোসেনের কবিতা ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির মতো। আপাত শান্ত তবে বুকে কান পাতলে ভিতরে প্রজ্বলিত অগ্নিস্রোতের গর্জন শোনা যায়। আঘাত ও অভিঘাতে তাঁর কণ্ঠতন্ত্রী আন্দোলিত হলে যে কম্পন সৃষ্টি হয়, সেই কম্পন থেকেই কবির মসীগর্ভে প্রবাহিত হয় ঝড়। সেই ঝড়ে ফেনায়িত ঊর্মিমালা প্রবলবেগে আছড়ে পড়ে জীবনের বালুকাবেলায়। বিচূর্ণ হয় পাষাণের বুক। বিক্ষত হৃদয়ের গহিন থেকে তখন প্রবল কল্লোলের মতো উদ্গিরিত হয় কবিতা ।
ধরণির ধূলি থেকে অসীম আকাশ অবধি বিস্তৃত হয়েছে মানুষের মহাসাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্যে বিচরণ করছে অগণন মুখোশধারী মানুষ। মুখোশ খুলে মানুষ হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়। এটাই কবির উপলব্ধি কবির হৃদয়ে দাগ কেটেছে উদ্ভ্রান্ত সময়ের ক্রূর বাস্তবতা। নিবিড় অনুসন্ধিৎসা ও মানবিক নিরীক্ষণে কবিতার পরতে পরতে তাই ভাস্বর হয়েছে দ্রোহ, প্রেম ও বিরহের অনন্য পদাবলী ।
এই গ্রন্থের কবিতাসমূহের শিকড় মাটিলগ্ন থেকেও পত্রপল্লবে সৃজিত হয়েছে বহুমাত্রিক বিকাশ। মাটির সোঁদাগন্ধ, নাড়ির টান, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যমগ্নতা, প্রেম, প্রতিবাদ, দ্রোহ ইত্যাদি একটি মোহনায় মিলিত হয়েছে। এই গ্রন্থের কবিতাগুচ্ছ এক অবরুদ্ধ সময়ের দলিল। আর এই রুদ্ধ দিনগুলির করালগ্রাস ছাপিয়ে এক নতুন জীবনের স্বপ্নিল কারুবাসনাই এই কাব্যগ্রন্থের মর্মকথা। কবিতার আঙ্গিক ও স্টাইল দুটোই স্বনিয়ন্ত্রিত, সাবলীল ও অন্যের প্রভাবমুক্ত।