‘মিশকা-তুল মাসা-বীহ’ হাদীসের একটি প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য বিরাট সংকলন| মুসলিম বিশ্বে এটা যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করেছে| হাদীসশাস্ত্রের প্রাথমিক ও মধ্যম স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিশকা-তুল মাসা-বীহ’ এক অমূল্য সম্পদ| এই গ্রন্থটির সংকলক হলেন ইমাম ওয়ালীউদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ আল খতীব আত& তীবরীযী (রহ.)| তিনি পূর্ববর্তী বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মাসাবীহুস& সুন্নাহ’-কে পরিমার্জন, সংযোজন ও সুবিন্যস্ত করে ‘মিশকা-তুল মাসা-বীহ’ সংকলন করেন| প্রায় সকল মাদ&রাসাহ& ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থটি পড়ানো হয়| মুহাদ্দিসগণ এর বহু শারাহ গ্রন্থ রচনা করেছেন| গ্রন্থটিতে ৬২৯৪টি হাদীস রয়েছে|
‘মিশকাত’ অর্থ প্রদীপ রাখার কুলুঙ্গি এবং ‘মাসাবীহ’ অর্থ প্রদীপসমূহ; অর্থাৎ নামের মধ্যেই নিহিত রয়েছে হিদায়াতের আলো ছড়িয়ে দেয়ার বিস্ময়কর তাৎপর্য বিদ্যমান| এ গ্রন্থে ‘আক্বীদাহ&, ‘ইবাদাত, আখলাক্ব, পারিবারিক জীবন, সামাজিক আচরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, দু‘আ-যিক&র এবং ফাযায়িলে আ‘মালসহ ইসলামী জীবনের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেয়েছে|
গ্রন্থটির অন্যতম ˆবশিষ্ট্য হলো হাদীসগুলো বিষয়ভিত্তিকভাবে সাজানো হয়েছে এবং অধিকাংশ হাদীসের মূল উৎসও উল্লেখ করা হয়েছে| ফলে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী একটি গ্রন্থে পরিণত হয়েছে| এ কারণে উপমহাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের বহু মাদরাসায় এটি দীর্ঘদিন ধরে পাঠ্যগ্রন্থ হিসেবে পঠিত হয়ে আসছে|
বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস বিশ্ববিখ্যাত রিজালশাস্ত্রবিদ ‘আল্লামাহ& নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ.)-এর “তাহক্বীক্বে মিশকাত” গ্রন্থসহ অন্যান্য তাখরীজ গ্রন্থের সহায়তায় হাদীসের মান (সহীহ, য‘ঈফ) নিরূপণ করা হয়েছে| যে সকল মুসলিম ভাই ও বোনেরা য‘ঈফ হাদীস বাদ দিয়ে শুধু সহীহ হাদীসের ওপর ‘আমাল করতে চায় (আর এটাই সকলের জন্য অত্যাবশ্যক) তাহক্বীক্বকৃত মিশ&কা-তুল মাসা-বীহ অনুবাদ গ্রন্থটি তাদের যথেষ্ট উপকারে আসবে ইন&শা-আল্লা-হ| ‘মিশ&কা-তুল মাসা-বীহ’-এর (আলবানী’র) তাহক্বীক্ব এবং (মির্‘আ-তুল মাফা-তীহ’-এর) ব্যাখ্যাসহ অনুবাদ এটাই প্রথম|
মিশ্কা-তুল মাসা-বীহ ১ম থেকে ৩য় খণ্ড পর্যন্ত উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদীসবিশারদ শায়খ ‘উবায়দুর রহমান মুবারকপূরী (রহ.) রচিত “মিশ্কা-তুল মাসা-বীহ”-এর যুগান্তকারী ভাষ্যগ্রন্থ “মির‘আ-তুল মাফা-তীহ” হতে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা সংযোজিত হয়েছে| আর অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো তিনি “মির্‘আ-তুল মাফা-তীহ” ভাষ্যগ্রন্থটি কিতাবুল মানাসিক (হাজ্জ পর্ব) পর্যন্ত সম্পন্ন করে ইন্তিকাল করা সত্ত্বেও এই গ্রন্থটি বিশ্বব্যাপী যথেষ্ট আলোড়িত হয়েছে|
আর ৪র্থ থেকে ৬ষ্ঠ খণ্ড পর্যন্ত আমরা কুতুবুস্ সিত্তাহ্ (১. সহীহুল বুখারী, ২. সহীহ মুসলিম, ৩. আবূ দাঊদ, ৪. তিরমিযী, ৫. ইবনু মাজাহ ও ৬. নাসায়ী)-সহ অন্যান্য সুনান গ্রন্থ থেকে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা সংকলিত করেছি| আর সহাবা, তাবি‘ঈ, তাবি‘-তাবি‘ঈন এবং বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ও গ্রহণযোগ্য জুমহূর ‘উলামাহ্, খ্যাতনামা ‘আলিমদের মতামত ও সিদ্ধান্তসমূহ উল্লেখিত হয়েছে| যে সকল শরাহ (ব্যাখ্যা) গ্রন্থের আলোকে এই গ্রন্থ খণ্ডের ব্যাখ্যা নেয়া হয়েছে তা হলো— ফাতহুল বারী, শার্হুন্ নাবাবী, ‘আওনুল মা‘বূদ, তুহফাতুল আহওয়াযী, শার্হুন্ নাসায়ী, মুনতাক্বা, মির্ক্বা-তুল মাফাতীহ ইত্যাদি|
অতএব রসূলুল্লাহ (স.)-এর জীবনাদর্শকে জানতে, তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গড়তে এবং কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা বুঝতে—হাদীসের প্রসিদ্ধ ও সমৃদ্ধ গ্রন্থসমূহের মধ্যে মিশকা-তুল মাসা-বীহ একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে| আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন, প্রচার ও ‘আমাল করার তাওফীক্ব দান করুন| আ-মীন|