রেডিও চালালেই শোনা যাচ্ছে নাৎসি পার্টি আর ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর খবর। কোথায় সেই আট হাজার কিলোমিটার দূরে কামান দাগিয়ে যুদ্ধ করছে শ্বেতাঙ্গরা, কিন্তু তার জন্য বিপর্যস্ত হচ্ছে কলকাতার জনজীবন। একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে দুর্ভিক্ষ, মৃত্যুই এখানে একমাত্র রিয়েলিটি। তখন কেইবা জানত, এই ঝিমিয়েপড়া কলোনিয়াল কলকাতায় ধর্মতলার পাশে মট লেনেই রয়েছেন এমন একজন যার ঝুলিতে রয়েছে বাংলা সাহিত্যের অসাধারণ কিছু অতিপ্রাকৃত গল্পের ভান্ডার।
গলির মধ্যে ছোটো একটা একতলা বাড়িতে থাকেন তিনি। লেখক তার বর্ণনা দিয়েছেন অনেকটা এভাবে- বয়স ষাট-বাষট্টির বেশি নয়, রং টকটকে গৌরবর্ণ, মাথার চুল প্রায় সব উঠে গিয়েছে। লর্ড রেডিঙের চেহারার সঙ্গে এনার আশ্চর্য মিল, তবে পার্থক্য হলো লর্ড রেডিঙের চেহারায় আত্মপ্রত্যয়ের ভাব অনেকটা বেশি। লেখকের ভাষ্যমতে উনি গিয়েছিলেন এই ব্যক্তির ক্ষমতার প্রয়োগ দেখতে। কারণ, পেশায় লোকটি ছিলেন একজন জ্যোতিষী। লোকটির অদ্ভুত ক্ষমতা দেখে লেখক কতটা মুগ্ধ হয়েছিলেন তা চিহ্নিত করা মুশকিল, তবে এই বিশেষ ব্যক্তির গল্প বলার ঢং যেমন আশ্চর্য, তেমনি গল্পের বিষয়ও ছিল ভেতো বাঙালির সাধারণ জীবনের বাইরে।