রাত নামলে রিসোর্টটির চারপাশে বনের নিশ্বাস ঘন হয়ে ওঠে। এমন এক রাতে সেখানে আসে এক অপরিচিত অতিথি-তার চোখে যেন অন্ধকারের ভাষা, আর পদচিহ্নে সময়ের গোপন ক্ষতচিহ্ন। কিছুক্ষণ। পরই বন্ধ একটি ঘর থেকে শোনা যায় অস্পষ্ট শব্দ, কুয়াশার মতো ধোঁয়া আর ভোরে পাওয়া যায় নিখোঁজতার অবশিষ্ট নীরবতা।
শহরের কেন্দ্রে এক কাচঘেরা ভবনে আরেকজন মানুষ। অনুভব করতে থাকে অদৃশ্য কোনো হাত তার জীবনের ভাঁজগুলো খুলে দেখছে। কাগজ হারায়, ফোনে আসে নীরব সতর্কতা, আর আশপাশে জন্ম নেয় এমন সব ছায়া-যাদের মুখ নেই, পরিচয় নেই, তবু স্পর্শ আছে। তার মনেও জন্ম নেয় প্রশ্ন-সে কার খাঁচায় হাঁটছে?
সত্যের খোঁজে নামা এক নারী ধীরে ধীরে ছিঁড়ে ফেলেন অন্ধকারের আস্তরণ। বন, নদী, পাহাড়, সমুদ্র-সব জায়গায়ই তিনি খুঁজে পান একই কন্ঠের প্রতিধ্বনি, একই চিহ্নহীন পদচিহ্ন। কেউ তৈরি করছে এক নীরব করিডর যা মানচিত্রে নেই, চোখে দেখা যায় না, তবু দেশের শিরায় প্রবাহিত হয়।
তিনটি জীবন, তিনটি নিঃশব্দ ব্যথা-আর তাদের মাঝখানে লুকানো এক সত্য, যা আলোকে ভয় পায়, কিন্তু অন্ধকারকে পথ দেখায়।