টেকচাঁদ ঠাকুরের ‘আলালের ঘরের দুলালে’র একটা চরিত্রের নাম ঠকচাচা, বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর ‘বঙ্গদেশের কৃষক’ প্রবন্ধে হাসিম শেখ আর রামা কৈবর্ত্ত্য’র নাম উল্লেখ করেছিলেন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’র দুইজন মাঝির নাম কুবের আর হোসেন মাঝি।
বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চায় এদের কী দরকার? এরা কি কেবল বইয়ের ভেতরে থাকা ছাপার অক্ষর? না, উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর বাংলার জনজীবনের প্রতিভূ, জল-কাদা-মাখা বাঙালির সংগ্রামী অবয়ব।
বাংলা উপন্যাসের এই পর্বের সঠিক বিশ্লেষণ করলে চরিত্রগুলো ইতিহাসে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করে দেবে। বেরিয়ে আসবে অনেকগুলো অব্যক্ত সত্য। জানা যাবে বঙ্গভঙ্গের কারণ, স্পষ্ট হবে পূর্ববাংলার হিন্দু-মুসলমানের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিবরণ, আর উন্মোচিত হবে উনবিংশ শতাব্দীর কলকাতা-কেন্দ্রিক সারস্বত সমাজের আত্ম-অন্বেষণের নামে ভুল পথে যাত্রার পরিণাম।
পূর্ববাংলার এই অসাম্প্রদায়িক শক্তির কোন মূল্যায়ন হয়নি। অসাম্প্রদায়িক শক্তির লেখকদের বক্তব্য আর কোথাও প্রতিধ্বনিত হয়নি। অমরেন্দ্র ঘোষের লেখাগুলো আমরা পড়ি না। আমরা জোর গলায় বলতে পারিনি পূর্ববাংলার হিন্দুরাও পূর্ব পাকিস্তান চেয়েছিল এবং সেই পূর্ব-পাকিস্তানই আজকের বাংলাদেশ।