অদ্বিতীয়া
এই যে দেখছেন বইয়ের নামের নিচে বড় করে লেখকের নাম জ্বলজ্বল করছে। আসলে কিন্তু বইটি তার নয়। প্রচ্ছদে প্রকাশনীর নামটাও সুন্দর ফুটে রয়েছে, তারাও এর মালিক নন। বইটি আসলে কাদের, জানেন? এই বইটি শুধুই অদ্বিতীয়াদের। অদ্বিতীয়ার পরিচয় কী? কারা সেই সৌভাগ্যবতী, যাদের সামনে শ্রদ্ধায় নুয়ে আসে দৃষ্টি? যাদের মর্যাদার কথা শুনলেও মনে ঈর্ষা জাগে জগতের সব বিবেকবান মানুষের?
এই মানুষটি হয়তো আপনি। কিংবা আপনার বোন, বান্ধবী, আত্মীয়া, পাড়া-প্রতিবেশী অথবা পরিচিতা কেউ। বস্তুত, আমাদের চারপাশেই তাদের অবস্থান। দিন যত যাচ্ছে, জুলুমের এই জগতে তাদের সংখ্যা শুধু বেড়েই চলেছে। তাদের জীবনের সংগ্রামের কথা আমরা হয়তো জানি। হয়তো জানি না। কিন্তু দুদিনের এই পৃথিবীতে তাদের সংগ্রামের সহযোদ্ধা হতে না পারি, সমব্যথী হতে তো কেউ বাধা দিচ্ছে না। তাই, তাদের জন্য এই ক্ষুদ্র উপহারটুকু।
আমার স্বপ্ন বিশাল। দেশের প্রতিটি অদ্বিতীয়া, অপরাজিতার কাছে এই ক্ষুদ্র উপহারটুকু পৌঁছে যাবে, এই আমার চাওয়া। এই কথাগুলো হয়তো আজ অবাস্তব মনে হচ্ছে। তবে, সর্বশক্তিমান রবের কাছে তো কিছুই অসম্ভব নয়।
একদিন আমরা থাকব না। কিন্তু মুসলিমবঙ্গ সেদিন আর ধূসর-ম্লান রইবে না। সেদিনের মুসলিমবঙ্গের জমিন হবে উর্বর, সবুজ। সেদিন আর কোনো অদ্বিতীয়া হবে না জালিমদের সহজ শিকার। সেদিন আর অপরাজিতাদের মুখ মলিন হবে না অন্ধ চামচিকাদের খোঁটায়। নোংরা পরজীবীরা সেদিন আর দুঃসাহস দেখাবে না অনন্যাদের ক্ষতি করার। বহু আকাঙ্ক্ষার সেই দিনটির সূর্যোদয়ের কত দেরি পাঞ্জেরি?
অদ্বিতীয়ার পৃথিবীতে আপনাকে স্বাগতম।
মুখোশ
কিশোর বয়সটায় শরীর-মনে একটা উচ্ছলতা কাজ করে। এ বয়স তাই বাধা-বন্ধনহীন। নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কারের নেশায় এ বয়স থাকে উন্মত্ত। এ বয়স ছুটে বেড়ায় প্রান্তরে প্রান্তরে। এ বয়স অ্যাডভেঞ্চার-প্রিয়।
আমাদের এই বইটি অ্যাডভেঞ্চার-প্রিয় এমন চার জন কিশোরকে নিয়ে। রোমাঞ্চকর তিনটি ভিন্ন গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো বইটি।
পাঠক, অ্যাডভেঞ্চারের জগতে আপনাকে স্বাগতম। অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করুন একদল ডানপিটে কিশোরের সাথে।
দখিন হাওয়া
ছোট্ট একটি মেয়ের গল্প। অসুস্থ মা, ব্যস্ত বাবার অপ্রতুল সান্নিধ্যে যার শৈশবের এলোমেলো সূচনা। মা চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বয়ঃসন্ধিতে পা রাখা রিশতার জীবন-নৌকোখানি তখন অতল ঘূর্ণিতে ঘুরপাক খেতে থাকল। বিমাতার আগমনে ষোলোকলার অবশিষ্টাংশও যেন পূর্ণ হলো। বড় হওয়া থেমে থাকে না কারোরই। তবে তার মনের বয়স যেন থমকে গেল উপযুক্ত দিকনির্দেশনার অভাবে।
তারপর?
চেহারা আর অবয়বে চটকহীন, বুদ্ধিতে সারল্য, অবুঝ রিশতাকে সবাই দূরে ঠেললেও কাছে টেনে নিলেন একজন। তার আন্টিমা। রিশতার জীবন-ঘেরা সকল বৈরিতার বিপরীতে এই মমতাময়ী নারী একাই যেন দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন। কে বলবে তিনি ওর শাশুড়ি, ছেলের জন্য নিজ হাতে গড়েপিটে দিচ্ছেন ওকে!
রিশতার জীবনে আরও কিছু চমৎকার মানুষ এল। তাই তো, ঝরে পড়ার সবরকম সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ঘটল তার উলটোটাই। এই সুন্দর সান্নিধ্যগুলোর ওসিলায় বাগানের সবচেয়ে সুন্দর ফুলের মতোই একদিন পরিপূর্ণ প্রস্ফুটিত হলো রিশতা। গুমোট বাতাসের স্তব্ধতা ফুরিয়ে দখিন হাওয়ায় প্রশান্ত হলো সাদাফের জীবন।