আমান সাহেব প্রায় সারাদিন পড়ার মধ্যে ডুবে থাকেন। শুধু পড়েন আর পড়েন।
তাদের চারতলা বাড়ির নিচতলার পুব দিকের ঘরটা আমান সাহেব তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরি হিসেবে গড়ে নিয়েছেন। নিচতলায় ঢুকে ডান দিকে একটু করিডোরের মতো। করিডোরের দু'পাশে দুই-চারটা রুম পেরিয়ে একটু ভেতর দিকে আমান সাহেবের লাইব্রেরি।
বাড়ির দোতলায় থাকেন আমান সাহেব। তিন আর চারতলায় ভাড়াটিয়ারা। আর নিচতলার উত্তর পাশে দুই রুমের ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে এক ভাড়াটিয়া থাকে।
নিচতলার পুব পাশটা সব সময় ছায়া ছায়া অন্ধকারে ডুবে থাকে। এমনিতেও পাড়ার এই সাইডটায় সারাদিন-রাত আলো-আঁধারের খেলা! পাড়ার যে গলিতে এই বাড়িটা, জন্ম থেকেই এই গলিটা ম্লান। আলো সহ্য হয় না। তাই দিনের বেলাতেও ছায়া ছায়া অন্ধকার যেন! গলিটাতে পুরনো আমলের বাড়ির সংখ্যাই বেশি। সেসব বাড়ির বর্ণনা কি আর দিতে হয়? মোটা মোটা দেয়ালে গড়া ইয়া বড় বড় বাড়ি! হাজার বছরের বুড়ো বাড়িগুলো বয়সের ভারে কম-বেশি ভেঙে পড়লেও দুই পায়ে ভর করে ঠিক দাঁড়িয়ে আছে।