আঠারো বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই যে ত্বকীকে সারমেয়-প্রতিম ঘাতকের হাতে প্রাণ বিসর্জন দিতে হলো, সেই ত্বকী যে ছিল একান্ত বিরলসংখ্যক মহাপ্রতিভাধরদেরই একজন- সে ব্যাপারে আমার মনে সামান্যতম সন্দেহও নেই।
প্রতিভার বিচারে ত্বকীর তুল্য বিবেচিত হতে পারে, আমার পরিচিতজনদের মধ্যে এমন কাউকেই আমি খুঁজে পাইনি। কিশোর ত্বকীর প্রাত্যহিক জীবনাচরণ দেখে তাকে 'অন্তর্ভূত' (ওহঃৎড়াবৎঃ) চরিত্রসম্পন্ন বলেই মনে হতো।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে ছিল খুবই প্রাণচঞ্চল ও তীক্ষ্ণধী এক কিশোর। ছিল পরিপার্শ্ব সচেতন। বিরূপ পরিপার্শ্বকে বদলে দেবার তাগিদে অনুক্ষণ সে তাড়িত হতো।
নিজের সচেতন কর্মকাণ্ডের ওপর সে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করতো, কবি-কিশোর সুকান্তের মতোই 'বিশ্বকে বাসযোগ্য' রূপে গড়ে তোলার প্রত্যয় ছিল তার সমগ্র সত্তায় জড়িত-মিশ্রিত।
প্রাণচাঞ্চল্য তাকে উন্মার্গগামিতার দিকে ঠেলে দেয়নি, বরং জীবনসাধনায় সে ছিল একান্ত স্থিতধী। তাই সে অনায়াসে বলতে পেরেছিল- ঘরে ঘরে জ্বলে উঠবে জ্ঞান-প্রীতির আলো,/ থাকবে না হিংসা বিদ্বেষ/ মানুষে সাম্য হবে/ সকলেই এক হবে/ সকলের জ্ঞান হবে/ আকাশ চূড়ায়। [সাম্য] আবার জীবনানন্দের মতোই মৃত্যুর পরে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ভাবনা হৃদয়ে ধারণ করেও জীবনানন্দীয় ভাববলয়কে অনেক দূর অতিক্রম করে গেছে সে।
'খোদার আসন আরশ ছেদিয়া' ওঠার নজরুলীয় বিদ্রোহেরই নবতন ও স্বকীয় রূপায়ণ ঘটানোর প্রত্যয়-দৃপ্ত উচ্চারণ ছিল তার কণ্ঠে।