বিশ্বায়নের অভিঘাতে জীবনের নিটোল বৃত্ত ছিঁড়ে যাচ্ছে। প্রকৃত বা অবিমিশ্র বলে এখন আর কিছুই থাকছে না। মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে গর্বের বেলুন বেশ আগেই ফুটো হয়ে গেছে। সবকিছুকে বস্তু আর পণ্যে পরিণত করতে গিয়ে মানুষ নিজেই পণ্যায়িত হয়ে পড়েছে। সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি একে অপরের সঙ্গে আন্তঃগ্রন্থিকতায় লীন হয়ে গেছে। ভাষা থেকে শুরু করে ভাবনাকাঠামো, বোধ থেকে বোধি পর্যন্ত প্রতিনিয়ত সংকরায়িত হয়ে চলেছে। কোন ভাবনাকাঠামোই এখন আর এর একচ্ছত্র প্রভাব বা হেজেমনি বেশিদিন ধরে রাখতে পারছে না। সাহিত্য-পাঠ এখন আনন্দপাঠের তকমা হারিয়ে ফেলছে। তত্ত্বের নৈরাজ্যের দাপটে সাহিত্যের গা থেকে নান্দনিকতার পোশাক প্রায় খসে পড়েছে। উত্তর-ঔপনিবেশিককালে এসে সাম্রাজ্যবাদ যখন মাল্টিকালচারালিজম বা ভুবনায়নের ছদ্মবেশে দিকে দিকে ফণা তুলছে তখন সাহিত্য প্রতিপ্রপঞ্চ নির্মাণের শক্তিশালী ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আবার সাহিত্যের উত্তর-ঔপনিবেশিক পঠন আগের সব পঠন-পাঠনকে অঘোষিতভাবে বাতিল করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা যারা গ্লোবাল সাউথের মানুষ, তাদের সাহিত্য কেমন হবে? আমাদের পঠন কেমন হবে? আমাদের সাহিত্য-বিশ্লেষণের তত্ত্বকাঠামো কী হবে? এতসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে এই গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।