মানুষের সমাজে প্রথম যাদুকরেরা ছিলেন পুরোহিত, পূজারি, অবতার বা গুরুজাতীয় অসাধারণ ব্যক্তি। সাধারণের অনধিগত বিশেষ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ লৌকিক উপায়েই এরা যেসব রহস্যময় ক্রিয়াকলাপের অনুষ্ঠান করতেন, সেসব কিছুই সাধারণ মানুষ ভীতি এবং শ্রদ্ধা-মেশানো বিস্ময়ের চোখে দেখে ভেবে নিত এরা অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন, ঐশ্বরিক যাদু-ক্ষমতার অংশীদার। এই যাদুকরদের যাদুপ্রদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল মনোরঞ্জন বা চিত্তবিনোদন নয়, অলৌকিক রহস্যময় শক্তির অভিনয়ে অভিভূত এবং বশীভূত করে সাধারণ মানুষদের ওপর আধ্যাত্মিক বা অন্যপ্রকার প্রভাব বিস্তার করা। তারপর যাদুবিদ্যা ক্রমে ক্রমে অলৌকিকতার এলাকা ছাড়িয়ে চলে এসেছে লৌকিক মনোরঞ্জনের এলাকায়। যাদুবিদ্যার ইতিহাস এই ক্রমবিবর্তনেরই ইতিহাস।
মঞ্চে, মহলে বা ময়দানে বিচিত্র বিস্ময় আর রহস্য সৃষ্টি করাই যাদুকরদের পেশা বা নেশা, তাঁদের জীবনও তেমনি অসাধারণ বিস্ময়, রহস্য আর বৈচিত্র্যে ভরা। এরা নানা নামে অভিহিত—ম্যাজিশিয়ান, যাদুকর, বাজিকর, ভেলকিওলা, মাদারি। এঁদের তাক লাগানো খেলাগুলোরও নানা রকম নাম—ম্যাজিক, যাদু, ভেলকি, ভানুমতীর খেল, ভোজবাজি। যাদুর জগতে দীর্ঘদিন অন্তরঙ্গ বিচরণের ফলে যাদুকরদের বিচিত্র জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত হয়ে লেখক এই গ্রন্থে শুনিয়েছেন এদেরই কিছু কিছু আশ্চর্য সত্যি কাহিনি, যা কাল্পনিক কাহিনি বা গল্পগাছার চাইতেও রোমাঞ্চকর।