সংখ্যালঘুদের উপকূলে বাস করেও লাবণ্যর দাদা-নানারা কীভাবে যেন দেশভাগের ঘূর্ণিঝড় সামলে মাথা গুঁজে মুখ বুজে এদেশে থেকে গিয়েছিলেন। বলা যায় স্বল্পসংখ্যক সৌভাগ্যবানের একজন। কিন্তু দেশভাগের পঞ্চাশ বছর পর তাদের নাতি-পুতিরা কোনো ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ছাড়াই মন ভাগ করে উড়ে গেল কাঁটাতার পার হয়ে অন্য মানচিত্রে। একই উৎসজাত রোগের লক্ষণ ভিন্ন হলেও পরিণতি একই। শেকড় উপড়ে ফেলা। পরিণতি এক হলেও মোটা দাগের একটা পার্থক্য রয়ে গেছে। দেশভাগ অনুমান করা যাচ্ছিল, চাক্ষুষ ছিল।
কিন্তু এই মনভাগ আচমকা বজ্রপাতের মতো। বিনা নোটিশে নিঃস্ব করে দিল যেন জমিদারকে। কলকাতায় ডাক্তার দেখানো কিংবা দার্জিলিং ভ্রমণের নাম করে ঘর তালা দিয়ে সপরিবারে এই চলে যাওয়া তো বেড়াতে যাওয়া নয়। এটা যে ওয়ানওয়ে ভ্রমণ, তা তো কেউ জানত না। তখনো বাসার ফ্রিজে গোটা দুয়েক মুরগি, শোল মাছের অর্ধেক, কয়েকটা রূপচান্দা আর কোরালের টুকরোগুলো লবণ-হলুদ-মরিচ আর গরম তেলের অপেক্ষায় আছে। পাশের বাসার পুশিটাকে আর কেউ আদর করবে না। ও প্রতিদিন বিকেলে অপেক্ষা করত লাবণ্য কখন ভার্সিটি থেকে ফিরবে।