বুলবুলি সম্পর্কে শহীদুল্লাহ এতক্ষণ যা যা বলেছে সবই বানানো গল্প। ঈর্ষা থেকে গল্পটা বলেছে সে। চোখের সামনে প্রায় প্রতিদিন পরস্ত্রীকে নিয়ে ছি বুড়ি কুতকুত খেলে কবি বিপ্লব কারিগর। মাঝে মাঝেই শহীদুল্লাহর মেজাজ খারাপ হয়। পাশাপাশি দুটো রুম। এক রুমে বিপ্লব অন্য রুমে শহীদুল্লাহ থাকে। মুখোমুখি আরেকটা রুমে থাকে আজিজ ভাই। একটি প্রেসের ম্যানেজার। পরহেজগার মানুষ। বিপ্লবকে দুই চোখে দেখতে পারে না। মাঝে মাঝেই শহীদুল্লাহর কাছে অভিযোগ তোলে। বিশেষ করে বুলবুলি আসার পর বিপ্লব যখন প্রকাশ্যে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয় তখন আজিজ ভাই ‘আস্তাগফেরুল্লাহ... এইসব কী হইতেছে? মিয়া শহীদুল্লাহ একটা বিহিত করেন। পাপ কিন্তু বাপেরেও ছাড়ে না' বলে খিস্তি করতে থাকে.....
রেজানুর রহমান সমাজসচেতন কথাসাহিত্যিক। তার প্রতিটি উপন্যাসে সমাজবাস্তবতার নিরিখে চরিত্রগুলো পাঠকের চারপাশেই বিচরণ করে। 'আব্দুল মজিদ তার বউকে ভালোবাসে' উপন্যাসেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সন্দেহ করা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। সন্দেহ এক অর্থে তুষের আগুন। ভেতরে ভেতরে পোড়ায়। মানুষ যখন টের পায় তখন করার কিছুই থাকে না! এই উপন্যাসটি আমাদের চারপাশের চেনা জগতের মানুষদের অচেনা সত্যকেই সাহসের সঙ্গে তুলে ধরেছে...