জমজমাট জংশন রাণাঘাট। মধ্যবয়সী এক রাঁধুনি বামুন। নাম হাজারি ঠাকুর। চূর্ণীর তীরে, একান্ত অবসরে স্বপ্ন দেখে নিজের একটি হোটেলের। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। মহামন্দা, কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যে ভেঙে পড়ছে দেশ-সংস্কৃতির লক্ষণরেখা। এমনই এক উত্তাল সময়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ষষ্ঠ উপন্যাস ‘আদর্শ হিন্দু-হোটেল’ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করতে শুরু করে ‘মাতৃভূমি’ পত্রিকা।
.
আমাদের চিরায়ত সিরিজে লেখকের প্রকাশিত অন্যান্য বই হলোÑ ‘অপরাজিত’, ‘অশনি সংকেত’, ‘আরণ্যক’, ‘পথের পাঁচালী’।
.
উদ্যমই তো জীবনের সব। কেননা জগতের সকল গণনাই শুরু হয় শূন্য থেকে। সততা-দক্ষতাকে পুঁজি করে নিতান্ত সাধারণ একজন মানুষও যে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেÑ হাজারি ঠাকুর এই প্রবাদটিকে অক্ষরে অক্ষরে সত্যি প্রমাণ করে। বিভূতিভূষণের মর্মস্পর্শী কলম পাঠককে সেই উড়ানের গল্প বলে যায়, কথকের মতো। হাজারি ঠাকুরের একাগ্র সংগ্রামের অনন্য সাফল্য আমাদের চারপাশের প্রাত্যহিক অনিমেষ আঁধারের মাঝেও এনে দেয় অনেকটুকু আলো।
হেরে যেতে যেতে মানুষ কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, একটু সহযোগিতা-সহমর্মিতার শক্তিতে মানুষ কত অসাধ্যই যে সাধন করতে পারে বাংলা সাহিত্যে তার মানবিকতম দলিলÑ ‘আদর্শ হিন্দু-হোটেল’। যাকে পড়তে হয় নির্জনতাকে সাক্ষী রেখে পড়ন্ত বিকেলের মৃদু আলোয়।