আদর্শ হিন্দু-হোটেল উপন্যাসের নায়ক হাজারী ঠাকুর একজন মধ্যবয়সি বাঙালি ব্রাহ্মণ। তিনি রাণাঘাট রেলস্টেশনের কাছে বেচু চক্রবর্তীর হোটেলে রাঁধুনির কাজ করেন। হোটেলের পরিচারিকা পদ্মঝি তাকে নিয়মিত অপমান করেন। হাজারী নিজে একটি হোটেল খোলার স্বপ্ন দেখেন কিন্তু পুঁজি নেই তার। কুসুমকে মেয়ে বলে মনে করেন হাজারী কিন্তু তাকে জড়িয়ে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ তোলেন পদ্মঝি। একদিন বেচু চক্রবর্তীর দোকানের বাসনপত্র চুরি হয়ে যায় এবং পুলিশ হাজারীকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার পর চাকরি হারান হাজারী।
কুসুম এবং তার গ্রামের মেয়ে অতশীর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে হোটেল ব্যবসা শুরু করেন হাজারী। এক বছরের মধ্যে তার হোটেলটি এলাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় হোটেলে পরিণত হয়। দেনার দায়ে নিলামে ওঠে বেচু চক্রবর্তীর হোটেল। রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে একটি হোটেল পরিচালনার জন্য টেন্ডার পান হাজারী। সবশেষে একটি গুজরাটি কোম্পানি তাকে উচ্চবেতনে চাকরি দিয়ে বোম্বে পাঠায়। যাওয়ার আগে তিনি বেচু চক্রবর্তীকে নিজের হোটেলের ম্যানেজার নিয়োগ দেন। পদ্মকেও তিনি চাকরিও দেন। যে পদ্মঝি একসময় কথায় কথায় হাজারীকে অপমান করতেন, উপন্যাসের শেষের দিকে তিনি হাজারীর পায়ের ধুলা নেন। আদর্শ হিন্দু-হোটেল এমন একটি উপন্যাসÑবারবার পড়লেও যার রসাস্বাদন শেষ হওয়ার নয়।