সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে রিহান ভেবেছিল- আরেকটু সময়, আরেকটু স্থায়িত্ব, তারপরই ফেরা যাবে। কিন্তু ফেরা কখনই সহজ নয়। যুদ্ধশেষেও যেমন পথের বাধা কাটে না- তেমনি ওডিসিউসের দীর্ঘ যাত্রার মতো তার প্রত্যাবর্তনও বিলম্বিত হতে থাকে। দূরে সরে যেতে থাকে দেশে রেখে আসা প্রিয়তমা স্ত্রী পলি-এক আধুনিক পেনেলোপে-আর পুত্র আফলাতুন, যার শৈশব অদেখাই থেকে যায়।
পলি, রাজধানীর এক কলেজের ইংরেজির অধ্যাপিকা, কখনও ওফেলিয়ার বিষণ্নতায়, কখনো ডেসডেমোনার নিরুপায় বিশ্বস্ততায় দীর্ণ। অন্যদিকে ইউরোপে রিহানের জীবনে আসে হেলেন-যেন ট্রয়ের অনিবার্য আহ্বান। ইতিহাস, দর্শন ও গ্রিক মহাকাব্যের আলো-আঁধারিতে সে কখনও নিজেকে আবিষ্কার করে আগামেমননের উচ্চাভিলাষী অথচ বিপর্যস্ত প্রতিচ্ছবিতে। আর মাঝখানে পুত্র আফলাতুনÑনীরব প্রত্যাশায় দাঁড়িয়ে থাকা এক আধুনিক টেলেমেকাস।
এইভাবে লেখা হয়ে ওঠে তিন মহাদেশজুড়ে বিস্তৃত এক কাহিনি।
আফলাতুন কেবল প্রেমের গল্প নয়; এটি মানুষের বহুমুখী উপস্থিতি, নৈতিক সংকট