টেকেন অ্যাট দ্য ফ্ল্যাড: এক সুন্দরী তরুণী বিধবাকে বিয়ে করার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পেরিয়েছে, লন্ডনের ওপর দিয়ে বয়ে গেল নাৎসিদের এক প্রলয়ংকরী বোমা হামলা। আর সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন গর্ডন ক্লোড। ঘটনার আকস্মিকতায় রাতারাতি বদলে গেল সব—পুরো ক্লোড পরিবারের বিশাল সম্পত্তির পাহাড় এসে জমা হলো প্রাক্তন মিসেস আন্ডারহের হাতে। এর কিছুদিন পরেই এরকুল পোয়ারোর কাছে এলেন মৃত গর্ডনের ভ্রাতৃবধূ। এক পিলে চমকানো দাবি নিয়ে এসেছেন তিনি—পরলৌকিক কোনো ‘আত্মা’ নাকি তাকে জানিয়েছে যে, মিসেস আন্ডারহের প্রথম স্বামী মরেননি, এখনো বেঁচে আছেন! প্রেতাত্মাদের ইশারায় স্রেফ অনুমানের ওপর ভিত্তি করে একজন নিখোঁজ মানুষকে খুঁজে বের করার এই অদ্ভুত অনুরোধে পোয়ারোর মনে খটকা জাগল। তিনি সন্দেহ পোষণ করলেন। তবে পোয়ারোকে সবচেয়ে বেশি রহস্যের সাগরে ডুবিয়ে দিল অন্য একটি ব্যাপার—মহিলার তাকে ভাড়া করার আসল উদ্দেশ্যটা কী? এর পেছনে কি আরও গভীর কোনো চক্রান্ত লুকিয়ে আছে? জট কি খুলতে পারবেন পোয়ারো?
প্যাসেঞ্জার টু ফ্রাঙ্কফুর্ট: মালয় থেকে লন্ডন ফিরছিলেন স্যার স্ট্যাফোর্ড নাই। সাধারণ এক ভ্রমণ, কিন্তু ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জে পা রাখতেই তার যাত্রায় লাগল এক রহস্যের মোচড়। এক রহস্যময়ী তরুণী আচমকা তার কাছে এসে শোনাল এক আতঙ্কের কথা—একদল আততায়ী নাকি তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে, সুযোগ পেলেই মেরে ফেলবে! কিন্তু এখানেই শেষ নয়, এরপর মেয়েটির সাথে তার দেখা হতে লাগল বারবার। আর প্রতিবারই মেয়েটি হাজির হলো সম্পূর্ণ নতুন এক পরিচয়ে! বিচিত্র সব ছদ্মবেশ আর আভিজাত্যের আড়ালে পটু এই নারী নাই-কে টেনে নিয়ে চলল এক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আবর্তে, যা তার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি ভয়ংকর। এমন এক অদ্ভুত মরণখেলা, যেখানে নিজের ছায়াকেও বিশ্বাস করার উপায় নেই। এক অদৃশ্য অথচ মহাশক্তিশালী শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে নাই-কে। যাদের হাতে আছে অঢেল অর্থ, আধুনিক মারণাস্ত্র আর চরম পেশাদারী প্রশিক্ষণ। এক অসম যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন স্যার স্ট্যাফোর্ড নাই। শেষ পর্যন্ত এই অদৃশ্য জাল ছিঁড়ে কি বেরিয়ে আসতে পারবেন তিনি?
স্পাইডার্স ওয়েব: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঝানু কূটনীতিকের স্ত্রী ক্ল্যারিসা। তবে তার একটা অদ্ভুত স্বভাব আছে—মাঝে মাঝেই দিবাস্বপ্ন দেখতে বড্ড ভালোবাসে সে। একদিন আনমনে ভাবছিল, কেমন হতো যদি কোনো একদিন সকালে লাইব্রেরিতে ঢুকে দেখি একটা মড়া পড়ে আছে? তখন আমি ঠিক কী করতাম? ক্ল্যারিসার সেই বিচিত্র কল্পনা যে এভাবে সত্যি হয়ে ধরা দেবে, তা বোধহয় নিজেও ভাবেনি! কেন্টের নিজের বাড়ির ড্রয়িংরুমেই হঠাৎ একদিন সে আবিষ্কার করল এক নিথর দেহ! কল্পনার সেই ভয়ংকর দৃশ্য যখন বাস্তবে রূপ নিলো, তখন কী করবে ক্ল্যারিসা? শান্ত ছিমছাম জীবনে এ কোন বিপদের সংকেত? রহস্যের এই জাল কি ছিঁড়তে পারবে সে?