স্কটল্যান্ডে কোম্পানির হেড অফিস। কলকাতায় কোম্পানির সিটি অফিস। যা কিছু অনুমতি, তা সিটি অফিসের সঙ্গে কথা বলে চা-বাগানের ম্যানেজারদের নিতে হয়। কিন্তু সেটা চাইলেই তৎক্ষণাৎ করা অসম্ভব ব্যাপার। সকালে লাইন বুক করলে বিকেলে যদি কলকাতার অফিসের সঙ্গে কথা বলা যায়, তা হলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়। বড় সাহেবের বয়স চল্লিশের কোঠায়। তিনি বিবাহিত হলেও বিশাল কাঠের বাংলোয় একাই থাকেন।
সাধারণত বিবাহিত ম্যানেজারদের পরিবার চা-বাগানে স্বামীর কাছে বড়জোর সপ্তাহ দুয়েকের জন্য বেড়াতে আসতে পারেন। পাকাপাকি থাকার কথা ওঁরা স্বপ্নেও ভাবতে পারেন না। চা-বাগানের ম্যানেজারের বাংলো তাঁদের চোখে বাসের যোগ্য মনে হলেও বিনোদনের কোনও ব্যবস্থা নেই। মুখ বন্ধ করে বসে শুধু জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে থাকা আর সন্ধের সময়েই বাঘের গর্জন প্রায়ই শোনা যায়। তাঁরা তাই কলকাতায় থাকলেও থাকতে পারেন। সেখানে ক্লাব আছে, সোসাইটি আছে, দেশের জাহাজ এলে নতুন নতুন সাদা চামড়ার মানুষের সঙ্গ পাওয়া যায়।