এক মায়াবী গ্রাম— যেখানে সবুজ গাছপালা, মাঠঘাট আর নদীর কলকল শব্দ মিলে তৈরি করেছে এক স্বপ্নের মতো জগৎ। সেই গ্রামেই থাকে দুই ভাইবোন, অপু আর দুর্গা। তারা প্রতিদিন নতুন কিছু খুঁজে পায়, কুড়িয়ে আনে ছোট্ট ছোট্ট জিনিস, যেগুলো তাদের চোখে হয়ে ওঠে অমূল্য রত্ন। এমনই একদিন তারা পায় একটা আম আঁটির ভেঁপু— একটা খেলনা বাঁশির মতো, কিন্তু যার মধ্যে লুকিয়ে আছে রকমারি আনন্দ, কল্পনা আর খেলার গল্প।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আম আঁটির ভেঁপু’ এমন একটা দরজা, যেটা খুললে আমরা ঢুকে পড়ি শৈশবের সেই রঙিন জগতে। এই গল্পে নেই কোনো রাজা-রানির জাদু, কিন্তু আছে গ্রামের সরল জীবন, প্রকৃতির মাধুর্য, আর অপু-দুর্গার চোখ দিয়ে দেখা এক দুর্দান্ত দুনিয়া।
তারা কখনও ছুটে চলে কাশফুলের মাঝে, কখনও বর্ষার জলে ভিজে মজা করে, আবার কখনও সন্ধ্যাবেলায় জোনাকির আলো দেখে বিস্ময়ে চোখ বড় করে। বিভূতিভূষণ এমনভাবে লিখেছেন, যেন আমরা নিজেরাই অপু বা দুর্গা হয়ে যাই— সবকিছু দেখি, অনুভব করি, আর মনে মনে সেই গ্রামে হাঁটতে থাকি।
‘আম আঁটির ভেঁপু’ শুধু কিশোরদের জন্য নয়, যে কেউ এ বইটি পড়লে তার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যাবে। বাংলা সাহিত্যের এ এক অমূল্য রত্ন, যা সব বয়সের পাঠকের