ইষ্টিকুটুম!! ইষ্টিকুটুম!!!
হলদে পাখিটি বাড়ির পশ্চিম পাশের বড় রেনট্রি গাছটির এ ডাল থেকে ও ডালে উড়ছিল আর পাখা ও লেজ উঁচিয়ে বিশেষ ভঙ্গি করে ডাকছিল। এবার উড়ে এসে উঠোনের পূর্বপাশে ডালিমগাছটিতে বসল। আবার ডাকল- ইষ্টিকুটুম!
ইষ্টিকুটুম!! ইষ্টিকুটুম!!!
তারপর লেজ ছড়িয়ে পাখা মেলে চমৎকার ভঙ্গি করে বিশেষ একটি শব্দ করল। চঞ্চল গতিতে এ ডাল থেকে ও ডালে গেল। আবার উড়ে গিয়ে উঠোনের পশ্চিম পাশের ঘরের সামনে পেঁপেগাছটির ডালে বসল। আবার ডাকল- ইষ্টিকুটুম! ইষ্টিকুটুম!!
ইষ্টিকুটুম!!!
হলদে পাখির এ ডাক ব্যথাতুর হয়ে ধরা দিল হাজেরা বেগমের মনে। কুটুম পাখি ডাকলে নাকি বাড়িতে কুটুম আসে। বাপের বাড়ির কথা মনে পড়ে গেল। নাইওর যাওয়ার জন্য মনটা এমনিতেই ব্যাকুল হয়ে ছিল। হলদে পাখির এ ডাক তাঁর মনের জ্বালা আরও বাড়িয়ে দিল, উদাস হয়ে উঠল মনটা।
পৌষের এ কোমল সুন্দর সকালে নরম রোদে বসে নকশিকাঁথা সেলাই করছিলেন হাজেরা বেগম। লোনা জলে চোখ ঝাপসা হয়ে এল। সে ঝাপসা চোখে সতা পরান সচের বদলে বদ্ধ বাবার মুখটি ভেসে উঠল।