পরার্থপরতা জীবন না হয়ে স্বার্থপরতাই যেন জীবন। নগরজীবনের কর্মব্যস্ত প্রতিটি মানুষই যেন এক একটি যন্ত্র। যন্ত্র যেরূপ কাজ করে, মানবিকতা-মূল্যবােধ শব্দগুলাে তার জন্য যেমন খাটে না-এ শহরের মানুষগুলাের জন্যও তা বহুলাংশে প্রযােজ্য। ছুটছে তাে ছুটছেই-কোথায় ছুটছে জানে না। গন্তব্য জানা নেই। গন্তব্যহীন জীবনের পথ যত গতিশীলই হােক কেন এক পর্যায়ে সে হুমড়ি খেয়ে পড়বেই। পড়েও মানুষ, তবু ভাবান্তর নেই। দিশা হয় না। আর যখন হয় তখন কিছু করার থাকে না। এ শহরের বিদীর্ণ হওয়া বুক থেকে যে গগনবিদারী চিৎকার বের হয় যদি মানুষ তা কান পেতে শুনতাে, প্রতিটি মানুষই বােধ। করি বধির হয়ে যেত। পর্দার অন্তরালে বা অন্ধকার প্রকোষ্ঠে যা ঘটে তা যদি স্বচক্ষে দেখতাে, সুস্থ-সবল। চোখ নিতে পারতাে না। চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে অন্ধত্ব বরণ করতাে। দিন দিন খুন-খারাবি, নষ্টকর্ম, সহিংসতা, মানুষরূপী হায়েনার সংখ্যা এত বেড়ে যাচ্ছে যে এ শহর একটা নরকে পরিণত হচ্ছে।