চোখের জিনা
‘সাইদ রাহিমাহুল্লাহ যখন ৮৪ বছর বয়সি বৃদ্ধ, তাঁর একটি চোখ অন্ধ হয়ে গেছে, অন্যের সাহায্যে চলাফেরা করতেন। সে সময় তিনি বলেন, ‘আমার কাছে নারীদের চেয়ে ভীতিকর কিছু নেই।’—সিফাতুস সাফওয়া : ২/৮০আর কিছু বলার আছে কি?
জিনা। গা শিউরে ওঠার মতো একটি শব্দ, তাই না? এই তকমা কেউ গায়ে মাখতে চায় না। অথচ মুহূর্তে মুহূর্তে জিনার শাস্তিস্বরূপ আমলনামায় পাপের বোঝা বেড়েই চলছে। তা নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। পরকালে জবাবদিহিতার ভয় নেই। যাকে বলে চোখ থাকতেও অন্ধ! তাই আমলনামায় নেকি জমা করতে ‘চোখের জিনা’ বইটি পড়ুন এবং অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন।
ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়
এক হাদিসে আল্লাহর রাসুল সা. শেষ জামানায় ফিতনার ভয়াবহ বিস্তার সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ‘শিগগিরই ফিতনা রাশি রাশি আসতে থাকবে। ওই সময় উপবিষ্ট ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে উত্তম (নিরাপদ), দাঁড়ানো ব্যক্তি ভ্রাম্যমাণ ব্যক্তি থেকে বেশি রক্ষিত। আর ভ্রাম্যমাণ ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে বেশি বিপদমুক্ত। যে ব্যক্তি ফিতনার দিকে চোখ তুলে তাকাবে, ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। তখন যদি কোনো ব্যক্তি তার দ্বিন রক্ষার জন্য কোনো ঠিকানা অথবা নিরাপদ আশ্রয় পায়, তাহলে সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করাই উচিত হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৬০১) এই হাদিসের ভাষ্য থেকে স্পষ্ট যে ফিতনা মানুষের জন্য এক বড় সংকট। তাই ফিতনা থেকে আত্মরক্ষা প্রতিটি মানুষের জন্য অপরিহার্য।
আত্মার ব্যাধি গীবত
আমরা সিয়াম পালন করি, সালাত আদায় করি, দান-সাদকা করি, যাকাত আদায় করি, হজ্ব পালন করি, ভালো কাজের আদেশ করি, খারাপ কাজের নিষেধ করি, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহভিত্তিক জীবন পরিচালনা করার চেষ্টা করি। পাশাপাশি আরও একটি কাজ ব্যাপকভাবে করি, তা হলো নেকি বিলানো। মনের অজান্তেই এতো সব ভালো ভালো কাজের কষ্ট করে অর্জিত নেকিগুলো বিলিয়ে দেয়াতেই যেন প্রশান্তি।
ভাবুনতো! এইযে এতোগুলো ভালো কাজ আপনি করলেন, আশা রাখেন যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা আখিরাতে আপনাকে দয়া করে আপনাকে জান্নাত দান করবেন, কিন্তু আখিরাত জীবনে গিয়েই দেখলেন, অর্জিত সেই আমল, অলরেডি আপনি নিজ হাতেই বিলিয়ে দিলেন, অন্য মানুষকে। কেবল বিলিয়েই বসে থাকলেন না, তাদের পাপগুলোও নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। জান্নাতের দারপ্রান্তে গিয়েও অবশেষে ফিরে আসতে হলো ভয়ানক সেই জাহান্নামে। কেমন হবে সেই অনুভূতি?