ভোরের আলো তখনো ফোটেনি, আমি সিঁড়ির শেষ ধাপে দাঁড়িয়ে ছিলাম রুপার অপেক্ষায়। চারপাশের টিলার ওপরের বাড়িগুলো বৃক্ষ-লতার নিবিড়ে জুড়িয়ে থাকে সারা বেলা। বিশাল চৌচাপটের বুনো বাতাবরণে, প্রায় পুরুষশূন্য এই বাড়িটা তো বেলা আটটা নাগাদ ঘুমিয়েই কাটায়। সিঁড়ির পাশের জামরুলগাছটার ডালে বসে একটা কাঙলাস অবাক চোখে আমাকে দেখছিল।
ছাই রঙের হাড্ডিসার প্রাণীটার ঠান্ডা চোখ দুটোতে চোখ রেখে শরীরটা হিম হয়ে যায়। ওর চোখের মণি দুটো থেকে যেন একটা ক্ষুধিত হিমাগ্নির তরল ধারা আমার চোখে এসে ঢুকছিল। আমরা যেন কত কালের চেনা! আমার মাঝেও তার মতো একটা পাশবিক তৃষ্ণার গড়লকে দেখতে পেয়েই বুঝি সে বিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়ে গেছে। আমরা পরস্পরের দৃষ্টিকে স্থির রেখে ভাবছিলাম। ওর চোখ লাল হয়ে উঠছিল। বুঝি সে আমার চোখের রক্ত, লোভ, কাম-সবই নিজের মাঝে ধারণ করে আমাকে মুক্তি দিতে চায়! করুণা করতে চায়!