সকালবেলা পরিতোষ এসে বলল, এসব আপনারা কী আরম্ভ করেছেন? সব কিছুরই একটা সীমা থাকা উচিত। তখনও দ্বিতীয় কাপ চা খাওয়া হয়নি। খবরের কাগজ পড়তে গিয়ে বার বার ভুলে যাচ্ছি। চোখদুটো আঠার মতন। এই রকমই হয়, দিনের প্রথম চোখ মেলেই দুটো ইচ্ছে জাগে, খাটের নীচ থেকে জলের গ- সেটা টেনে ঢকঢক করে এক নিশ্বাসে শেষ করা, যতবারই জল খাই মনে হয়, আ, জলই তো জীবন, কতরকম পানীয়ই তো চেখে দেখলুম, কিন্তু সকালবেলার জলের মতন এমন চমৎকার স্বাদ আর কিছুতেই পাইনি। তারপরই খবরের কাগজের জন্য মন ছটফট করে। কিন্তু তখনও ঘুমে মুখ জড়ানো, চোখ আঠা, মাথা ঝিমঝিমে, প্রথম পাতা শেষ করে সাতের পাতায় গিয়ে আবার প্রথম পাতাটা ভুলে যাই। মনে হয়, আজকের প্রধান খবর কী? প্রধান খবর জানতে গোড়ার দিকে ফিরে এসে ততক্ষণে ফের ঝিমুনি এসে যায়।
বারান্দা থেকেই পরিতোষকে আসতে দেখেছিলাম। অল্প বৃষ্টি পড়ছে, ছাতা মাথায় পরিতোষ বকের মতো পা ফেলে ফেলে আসছিল।
আমি জোর করে চোখ খুলে রেখে বললুম, ব্যাপারটা কী? কাল রাত্তিরে আপনারা কোথায় ছিলেন?