সমতট বঙ্গের মহা প্রতাপশালী মহামতী আদিশূরের পুত্রলাভ হচ্ছিল না। তিনি শাস্ত্রজ্ঞ, ধর্মনিষ্ঠ, প্রজারঞ্জক, আর্যজাতির মান-মর্যাদার প্রতিপোষক, মহাবীর্যবান বাহুবল সম্পন্ন অধিরাজ। হেন অধিপতি নির্বংশ হয়ে যাবেন এটা তাঁর শিরঃপীড়ার প্রভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি বিশেষ চিন্তিত ছিলেন। এক যামিনী যাপনকালে বংশ রক্ষা হেতু সহধর্মিণীর সঙ্গে তিনি পরামর্শে লিপ্ত হন এবং যজ্ঞানুষ্ঠানের ভাবনা পোষণ করেন।
পুত্রেষ্টি যাগকামনার হোতা সংগ্রহের সময়ে তিনি পূর্ণরূপে জ্ঞাত হলেন যে, প্রাজ্ঞ ব্রাহ্মণ সকল এতদাঞ্চলে নেই। যারা নিতান্তই নির্বীর্য, শাস্ত্রে যাদের অধিকার নামমাত্র অথবা কেবল বংশানুক্রম রক্ষার্থে নিজেদের গৌরবান্বিত করতে অথবা বঙ্গের গৌরব নিধন করতেই ব্যস্ত, কেবল তাদেরই খোঁজ পাওয়া গেল। এদের দ্বারা অন্তত মহাযজ্ঞানুষ্ঠান সম্ভব নয়। বঙ্গের ব্রাহ্মণকুল সকলে আচারভ্রষ্ট, বেদবিরহিত এবং যাগযজ্ঞে অকর্মণ্য অনুভূত হলে তিনি