বাংলাদেশ পাঠ : সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ক্রিয়াশীলতার অনুষঙ্গে শীর্ষক এই বইতে সংকলিত লেখাগুলো রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার পটভূমিতে সংঘটিত কিছু ঘটনার বিশ্লেষণ ও বিচারমূলক সমালোচনা। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মর্মবাণী, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্রমবিকাশের অপার সম্ভাবনা, পাকিস্তান-কালে পূর্ববাংলায় পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে নতুন বাঙালি জাতীয়তাবারে উদ্ভব ও বিকাশ, এবং স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্ররূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার দিকে ঘটনাপ্রবাহের ক্রমিক অগ্রগতি যৌক্তিক শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে অভিব্যক্ত হয়েছে বইয়ের প্রবন্ধসমূহে। জাতীয় উন্নতির লক্ষ্যে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদেরা এবং বুদ্ধিজীবীরা এসব নিয়ে ভাববেন এবং লিখবেন — এটাই স্বাভাবিক। ঘটনাপ্রবাহের অগ্রগতির ধারায় প্রত্যেক জেনারেশনকে তার চিন্তার অগ্রগতি সাধন করতে হয়। এটা মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছা-নিরপেক্ষ অনিবার্যতা। তবে এটাও অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, মানুষ ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত উদ্যোগে সাধনা ও সংগ্রামের দ্বারা ঘটনাপ্রবাহের গতিকে কিছুটা হলেও নিজেদের কল্যাণে রূপ দিতে পারে। এজন্য বলা হয় মানুষ ইতিহাসের স্রষ্টা। রাফাত আলমের এই বইটি পড়লে পাঠকের মনে এমনই নানা প্রশ্ন জাগতে পারে। বাংলাদেশে কর্মমুখী চিন্তাচর্চার নতুন আগ্রহ জাগ্রত হোক — এই কামনা করি।