১.১ বাংলা গদ্য উদ্ভবের প্রারম্ভেই উপন্যাসের জন্ম। যন্ত্রযুগের প্রভাব ও মানুষের যান্ত্রিক জীবনের গরজেই উপন্যাসের রূপকল্প নির্মিত। প্রাচীন ও মধ্যযুগের ছন্দোবদ্ধ, পদ্যময় সাহিত্যের স্থলে উপন্যাস মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ গাদ্যিক ক্যানভাস নিয়ে আবির্ভূত হয়। বাংলা উপন্যাস সাহিত্যে ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও হ্যানা ক্যাথারিন ম্যালেন্স উপন্যাস লেখার প্রচেষ্টা করলেও প্যারিচাঁদ মিত্রই বাংলা উপন্যাস শিল্পে প্রথম ঔপন্যাসিক হিসেবে অভিধা পান। ভবানীচরণের নববাবু বিলাস ও কলিকাতা কমলালয়'র ভাষা গদ্য হলেও মধ্যযুগের কাব্যময় ভাষার প্রভাব থেকে পবিত্রাণ পায় নি।
(পববর্তী পর্যায়ে আমরা দেখবো বঙ্কিমচন্দ্রও এই অনুযোগ থেকে মুক্তি পান নি) হ্যানা ক্যাথারিন ম্যালেন্সের ফুলমনি ও করুণার বিবরণ উপাখ্যানটিতে উপন্যাসের করণকৗশল অনুপস্থিত। লেখিকা প্রতিবেদনের মতোন কাহিনি বর্ণনা করে গেছেন। ফলে কাহিনির কার্যকারণ ও চরিত্রের সঙ্গে কাহিনির সংশ্লিষ্টতা না থাকায় উহা প্রতিবেদন হয়ে উঠেছে। এদিক থেকে প্যারিচাঁদ মিত্রই অগ্রগামী। তবে প্যারিচাঁদের উপন্যাসে সমাজের কুরুচি ও অসঙ্গতির চিত্র প্রতিভাত হওযায় তা হয়ে উঠেছে নকসা জাতীয় রচনা। বিচ্ছিন্ন ও টুকুরো কাহিনিগুলো প্যারিচাঁদ একই সাঁতায় বেঁধে পর্নাঙ্গ উপাখ্যান লিখতে চেয়েছেন।