নারী ও পুরুষ কি পৃথক সত্তা? মানুষের পৃথিবীতে নিরন্তর অনুরণিত এ প্রশ্নটি আধুনিক পৃথিবীতে বহুল আলোচিত ও বিশ্লেষিত হয়ে চলেছে। নারী-পুরুষ বৈষম্য হ্রাসের প্রচেষ্টায় বর্তমান বিশ্বের তাবৎ প্রগতিবাদী সমাজ যখন উচ্চকিত, তখন নারী ও পুরুষের পৃথক-ভাষা প্রসঙ্গটি ভাবায় বটে। নারী-পুরুষের সহাবস্থান ও ভূমিকায় এগিয়ে-চলা সমাজজীবনে নারীর ভাষা কীভাবে ও কখন পুরুষের চেয়ে পৃথক বৈশিষ্ট্যের ধারক য়ে উঠেছে-এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়েই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে নারীর ভাষা প্রসঙ্গে উচ্চতর গবেষণা সম্পন্ন করি।
সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সর্বক্ষেত্রেই যেমন লৈঙ্গিক বিভাজন রয়েছে-ভাষাপ্রয়োগ ক্ষেত্রেও তা বিরাজমান। 'নারী' নিজস্ব মমতাবোধের স্বতোৎসারণ ঘটিয়ে পৃথিবীতে কন্যা-জায়া-জননী ইত্যাদি নানা ভূমিকায় সমাজ- সভ্যতার অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে প্রতিভাত হয়- তবু আশ্চর্যজনকভাবে এই পৃথিবীতে তার অবস্থান সমাজের নিম্নবর্গে।