'বাঙালি' ও 'মুসলিম' দু'টোই জাতিবাচক শব্দ। প্রথমটির ভিত্তি মূলত অভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি; দ্বিতীয়টির ভিত্তি সংস্কৃতিরই একটি বিশেষ দিক 'ধর্ম'।জাতিসত্তার সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক ক্ষীণ কিন্তু সংস্কৃতির সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।এর কারণ, সংস্কৃতির শোণিত-ধারা জাতিসত্তার সূক্ষ্মতর তন্ত্রীতে-তন্ত্রীতে প্রবাহিত ধর্মীয় চেতনা হৃদয়ের বহিরঙ্গে প্রোথিত। যে জন্যে অভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি-ভিত্তিক জাতিসত্তার ভিত ধর্মভিত্তিক জাতিসত্তার চেয়ে অধিকতর সুদৃঢ়।
যদি তাই না হত তাহলে সমগ্র বিশ্বের মানুষ বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান, মুসলিম ও হিন্দু প্রধান এই চারটি ধর্মভিত্তিক জাতিতে বিভক্ত হয়ে চারটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হতো। কিন্তু তা সম্ভব নয়। কারণ জাতি এবং জাতীয়তা সমার্থক নয়। ইংরেজী nation শব্দের বাংলা অর্থ জাতি, কিন্তু nationality-র অর্থ জাতীয়তা।
অনেক জাতিকে নিয়ে জাতীয়তার নামকরণ হতে পারে; যেমন- ভারতীয়, পাকিস্তানী জাতীয়তা। বহুজাতিভিত্তিক ভারতীয় জাতীয়তার চেয়ে পাকিস্তানী জাতীয়তা সষ্টির ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত কম জাতির সমন্বয় ঘটেছিল।