কামাল মুহম্মদ সত্যসন্ধানী কবি। ‘বধিরের পাঠশালা’ কবির ষষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। তার কবিতায় চিত্রকল্প কল্পনা ও প্রতীকে মূর্ত হয়ে জীবন ও জগতের ইমেজ তৈরি করে। তার বাস্তবতা আর্তের ধ্বনি হয়ে চিৎকার করে এবং শেষতক শিল্পের রূপ-দুয়ার খুলে দর্শনে গিয়ে থামে। তখন কবিতায় দার্শনিকতা যেমন ফুটে ওঠে তেমনই কবিতা হয়ে ওঠে শিল্পমণ্ডিত। কবি আগে সমষ্টিকে ধারণ করেন নিজের ভেতরে। তারপর সামষ্টিক ধারণার অভিব্যক্তিকে শিল্পরূপ দেন কবিতায়। যেমন- ‘ডানার বাইরে যেতে পারে না পাখি’ অথবা ‘আমিকে ভাঙতে ভাঙতে গড়ি/জন্মাই আমি, নাম ধরে ডাকি হেই কামাল? কোথায়?’-এ এক দার্শনিক জিজ্ঞাসা। নিজেকে চেনার-জানার এবং জগৎকে বোঝার। এভাবেই বুনন হয় কবির কবিতা-দর্শন। যে দর্শন মানবিকতা, কল্যাণ, নৈতিকতা ও সৌন্দর্যকে নিয়ে হাঁটে। তিনি যখন বলেন, ‘দাঁড়কাক হই, ডালে বসে ডাকি দুপুরে-ভাত দে, রুটি দে/মদ দে…’ সত্যি সত্যিই আমরা তখন এমন এক জীবনের মুখোমুখি দাঁড়াই যেখানে আর্তমানবতার হাহাকার ছাড়া কিছুই ভাবা যায় না। এমতাবস্থায় কবিতাকে তিনি যে সত্যের মুখোমুখি নিয়ে যান তাতে একুশ শতকের পোশাক পরা সভ্যতার মুখোশ উন্মোচিত হয়ে পড়ে। গ্রন্থের প্রতিটি কবিতায় তার এই বোধ বিস্ময়ের উদ্রেক করে। তখন পরিশুদ্ধ এক বাস্তবতা কল্পনা করা ছাড়া পাঠকের আর উপায় থাকে না। গ্রন্থটি পাঠকপ্রিয় হোক।
-কবি সরকার আজিজ