আড্ডাটা বেশ জমে উঠেছিল। একঝাঁক তরুণ শিক্ষক। সবাই রাজনীতি সচেতন। দলমত নির্বিশেষে যে যার দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের রাজনীতি, মুসলিম বিশ্বের রাজনীতি, ইউরোপের রাজনীতি, আমেরিকার রাজনীতি সম্পর্কে মতামত দিয়ে যাচ্ছিল। সবার আলোচনা এতোই উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল যে ঘড়ির দিকে কারো নজরই ছিলো না। আজানের শব্দ শুনে সবাই বুঝতে পারলো পুবের সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে পড়েছে। ইতোমধ্যে আসলো বিস্কুট, আসলো চা।
এবার অধ্যাপক জহিরের বিদায়ের পালা। রুম থেকে বের হয়ে যে মুহূর্তে বারান্দার সিঁড়িতে পা রাখতে যাচ্ছে সহসা সামনে এসে দাঁড়ালো অধ্যাপক হাবিব। মধ্যম গড়ন, উজ্জ্বল বর্ণ, সুগঠিত দেহ। প্রফেসর জহিরকে সম্বোধন করে বলল- স্যার, আপনিতো সম্পর্কে আমার মামা।
আমার মায়ের নাম রাবেয়া। গত সপ্তাহের অনুষ্ঠানে আপনি আমাকে যে বইটি দিয়েছিলেন তা আমার মায়ের হাতে পড়তেই মা বলে উঠলেন, আরে এতো আমাদের জহির ভাই। ভাইকে দেখার আমার ভীষণ ইচ্ছে। একবার নিয়ে আয় না বাবা। সেই কত বছর আগে দেখা। দেখতে দেখতে প্রায় চল্লিশটি বছর পেরিয়ে গেছে। কথা দে বাবা, আগামী দিন তই ভাইকে সঙ্গে করে নিয়ে আসবি।