হৃদয়ের গহনের অবদমিত কামনা, সামাজিক সংঘাত এবং উনিশ শতকের মধ্যাহ্ন। ‘বিষবৃক্ষ’, স্বর্গ হতে পতনের আখ্যান। আবেগ-মোহে জড়ানো-ছড়ানো গার্হস্থ্যের রোম্যান্সেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চতুর্থ বাংলা উপন্যাস, ‘বিষবৃক্ষ’। বারো কিস্তিতে ১৮৭২ থেকে ১৮৭৩ বঙ্গদর্শনে যার আবির্ভাব। গ্রন্থাকারে প্রকাশ ১৮৭৩ সালের ১ জুন। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবদ্দশায়ই আট-আটটি সংস্করণ। নগেন্দ্রনাথ, সূর্যমুখী ও কুন্দনন্দিনীর ত্রিভুজ প্রেমের আবর্তে বাংলার স্কট দেখিয়েছেন, হৃদয়ের গহিনে রোপিত রূপজ মোহ চূড়ান্ত প্রস্তাবে বিনাশই ডেকে আনে। বঙ্কিমী গদ্যের ধ্রুপদী গাম্ভীর্যে ইংরেজ শাসনামলে বহুবিবাহ-বিধবা বিবাহের সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানবজীবনের যে করুণ বাস্তবতায় বঙ্কিমচন্দ্র দেখিয়েছেন মানুষের অন্তরের অন্ধকার, রিপুর কাছে পরাজয়। সমকালের ছবি আঁকতে গিয়ে প্রাধান্য দিয়েছেন ভাবের চেয়ে রূপকে বেশি, উপস্থাপনভঙ্গিতে কবিত্ব। নারীর মোহ জাগানিয়া শক্তির প্রকাশে তাঁর তুল্য সেকালে-একালে আর কেউই নন। সেই রূপের ডাকে কুহকের মতো ছুটে চলা
পুরুষ-প্রকৃতি আজও ‘বিষবৃক্ষ’ পাঠককে মনে করিয়ে দেয়, আবেগের মায়াবী হাতছানি ধ্রুব সত্যের পথকে প্রায়শই কুয়াশাচ্ছন্ন করে ফেলে।