বর্ষাকালের নদী একটু বেয়াড়াই হয়। নীল পানি দিন পনেরো হলো ঘোলা ব হয়েছে। ঘোলা পানি নদীর ঋতুবতী হওয়ার লক্ষণ, যেন মেয়েদের শুভ্র রক্তশ্রাব। এতদিন আটকে-থাকা অজস্র কুচরীপানা, শ্যাওলা আর ডালপালা স্রোতের মূল্যবান অলঙ্কার হয়ে প্রথম কয়েকদিনে ভাটিতে যে কোথায় ভেসে গেলো। এবার নদী পরিষ্কার। জলরাশি ঢেউয়ে জর্জরিত, মাঝে মাঝে বাতাসে চুম্বকের মতো নদীকে শুধু ওপরের দিকে টানে, তার জন্যে ঢেউয়ের মালা সমস্ত নদীর বুক জুড়ে। কিছুদিন হলো স্রোতের পানি এপারে চরের সমান্তরালে দূর্বাঘাস, পোকা-পিঁপড়েদের ডুবিয়ে ধানগাছের কোমর অব্দি পৌঁছেছে আর ওপারের গোড়ায় অবিরত ধাক্কা দিয়ে দিয়ে পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। মাঝরাতে পাড় ভাঙার শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আর ভেঙে পড়া খাড়া পাড়ে গর্ত-করে-থাকা দুঃস্থ পাখিদের আর্ত কিচির মিচির শব্দে রাত আরও কৃষ্ণকরুণ হয়।