পৃথিবীতে অনেক জাতি বীরত্ব দেখিয়েছেন, সমর-কৌশলের উন্নত নমুনা সবজাতির মধ্যেই কম-বেশি দেখা গেছে। কিন্তু বীরত্বের পাশাপাশি মানবতা ও মনুষ্যত্ব, যুদ্ধের ময়দানে কিংবা যুদ্ধ পরবর্তীতে বিজিত মানুষদের যেভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে নজীরবিহীন। এই একক বিশেষ বৈশিষ্ট্যর জন্যে অন্যান্য জাতি বিজয়ী হয়েও যেখানে বিজিতের কাছে নিন্দিত হয়েছে, সেখানে মুসলমানরা হয়েছে সমাদৃত। তাইতো, আমরা দেখতে পাই মাত্র অর্ধশতাব্দীর মধ্যে অর্ধবিশ্ব পদানত করেছিল যে জাতি, তার নাম মুসলমান। এই মুসলমানদের অংগুলি হেলনে সেসময়ের বহৎৃ দুটি পরাশক্তি রোমান ও পারস্যের বিশাল সাম্রাজ্য ধুলিসাৎ হয়েছিল। তাদের অভিযান এতোটাই দ্রুত, বিজয় এত ব্যাপক এবং ফলাফল এত সুদূরপ্রসারী ছিল যে, ইতিহাসে মুসলমানদের কীর্তির পাশে স্থান পাওয়ার মতো কোনো ঘটনা সংঘটিত হয়নি। সে সময়ের বৃহৎ দুই পরাশক্তিকে ধ্বংস করে একমাত্র গ্রহণযোগ্য শক্তি হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল মুসলমানরা।
ইতিহাসের সেরা মুসলিম বীরযোদ্ধাদের তালিকায় প্রথমে রাসূল (সা) ও তার সাহাবীদের নাম। তাদের দেখানো পথে হেটেছেন অন্যান্যরা। যুগে যুগে বহু মুসলিম শাসক ও সেনাপতিরা মানুষের কল্যানের জন্যে লড়াই করে মুসলিম সাম্রাজ্য বিস্তার করেছেন বিশ্বজুড়ে। তাদের তরবারীর ঝলকানি দেখে কম্পিত হয়ে উঠত জালেম কাফেরদের অন্তরাত্মা। আর এভাবে মুহুর্তেই শক্তিশালী অমুসলিম রাষ্ট্র পদানত হয়ে যেত তাদের কাছে । রণকৌশল, দুঃশাহস ও বীরত্বে তারা ছিল অতুলনীয়।