আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০টি উপদেশ
বইটি পড়ে আপনি ঘরে ঈমানি পরিবেশ তৈরী করার পদ্ধতি, ঘর ও পরিবার সংশ্লিষ্ট সুন্নাত ও মাসনূন দুআ পড়া এবং তা যথাযথ আদায় করার পদ্ধতি, বাড়িতে ইসলামি বইয়ের লাইব্রেরী তৈরী করা, ঘরে শিশুদের যত্ন নেওয়ার পদ্ধতি, ঘরে কোমলতার চরিত্র কীভাবে তৈরী করবেন, বাড়ি নির্বাচনের আগে প্রতিবেশী নির্বাচনের গুরুত্ব, ঘরের কিছু নিকৃষ্ট ও পরিত্যাজ্য বিষয়াবলী সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
বর্তমানে যে পরিমাণ ডিভোর্সের হার বেড়েছে তার বেড়াজাল ভেঙ্গে, আমাদের পরিবার গুলো হোক এক একটা আদর্শ পরিবার।
সন্তানের ভবিষ্যৎ
সন্তান, সে তো আসমান থেকে পাওয়া। সন্তান, সে তো স্বর্গ থেকে আসা। সন্তান, সে তো স্বপ্ন দিয়ে বোনা সোনা-রঙা সোনালি ফসল। সন্তান পৃথিবীর সবচেয়ে সুখের সম্পদ। সন্তান চোখের শীতলতা, অন্তরের কোমল উষ্ণতা, হৃদয়ের গহীনে সযত্নে চাষ-করা এক টুকরো মুক্তো। সন্তান মানে বেঁচে থাকার শক্ত অবলম্বন। সন্তান মানে সারাদিন ঘামঝরা ভীষণ খাঁটুনির পর এক অনাবিল প্রশান্তি। সন্তান মানে শত ঘুটঘুটে অন্ধকারেও আলোর ঝলকানি। সন্তান মানে অর্থবহ সার্থক বেঁচে থাকা। সন্তান মানে সহস্র হতাশার ভিড়েও আশার ফোয়ারা। সন্তানই তো উত্তপ্ত মরুভূমিতে ছায়া দেয়। হাড়-কাঁপানো-শীতে উষ্ণতা জোগায়। হাসি, খুশি আর আনন্দে জীবন রাঙায়। জীবনের শেষ বেলায় চশমা হয়ে পথ দেখায়, লাঠি হয়ে ভার নেয়, বাহন হয়ে সবখানে নিয়ে বেড়ায়, মুখে তুলে খাইয়ে দেয় আবার যত্ন করে ঘুম পাড়ায়।
কিন্তু এতসব প্রাপ্তির তৃপ্তি পেতে সন্তানকে আগে ‘মানুষ’ বানাতে হয়, তিলে তিলে গড়ে তুলতে হয়, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নোঙর ফেলতে হয়। ওহির আলোয় আলোকিত করে আপনি আপনার সন্তানকে কীভাবে জ্বলজ্বলে উজ্জ্বল করে গড়ে তুলবেন, সন্তানকে কীভাবে পৌঁছে দেবেন আলোর ঠিকানায় সেজন্যই আমাদের এই সবুজ আয়োজন——সন্তানের ভবিষ্যৎ।
অন্দরমহল
রাতে চেম্বার থেকে বাড়ি ফিরে সিঁড়ি বেয়ে তিন তলায় উঠে দরজায় টোকা না দিয়েই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলেন ডাক্তার সাহেব। উনার মা ও স্ত্রী ভেতরে গল্প করছেন আর খিলখিল করে হাসছেন। দরজার বাইরে থেকেই শোনা যাচ্ছে সেই হাসির শব্দ। চার বছরের বিবাহিত জীবনে ডাক্তার সাহেব কোনোদিন এ রকম হাসি শোনেননি; বরং এর বিপরীতটাই শুনেছেন দিনের পর দিন। ডাক্তার দাঁড়িয়ে রইলেন, আনন্দে তার গলা ভারী হয়ে এল।
ওই ডাক্তারের মতো সব ছেলেই চায় তার মা ও স্ত্রীর মাঝে মধুর সম্পর্ক থাকুক। কেননা পুরুষের জীবনে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এই দুজন নারী। সংসারে এই দুই নারীর আন্তরিক মেলবন্ধন সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয় পুরুষকে।
সংসার জীবনে ব্যাপক আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ এই নারীদ্বয়ের সম্পর্কের সমীকরণ মিলানোর এক রোমাঞ্চকর আয়োজন—অন্দরমহল!
সারেন্ডার্ড ওয়াইফ
জন গ্রে – এর লেখা মেন আর ফ্রম মার্স, উইমেন আর ফ্রম ভিনাস বইটি পড়েছিলাম। এটা আমাকে নারী ও পুরুষের পারস্পরিক যোগাযোগ পদ্ধতির ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে একটা ধারণা দেয়। তখন কিছুটা উপলব্ধি হয় যে, জীবন সম্পর্কে নারী ও পুরুষের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিগুলোতে কতটা পার্থক্য বিদ্যমান।
আমি অন্য নারীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি এবং বোঝার চেষ্টা করি—তাদের দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার পেছনে কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তখনো জানতাম না যে, এরই মাধ্যমে আমি আত্মসমর্পণের পথে হাঁটি-হাঁটি-পা-পা করে চলতে শুরু করেছি। পরে এটাই হয়েছিল আমাদের দাম্পত্য জীবনে প্রশান্তি তৈরি করা এবং আমার হারানো আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে আনার মাধ্যম। আজ আমি একজন আত্মসমর্পণকারী স্ত্রী হিসেবে নিজের পরিচয় দিই। একজন নারী হিসেবে যেরকম দাম্পত্য জীবনের স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম, ঠিক সেরকম একটা জীবনই পেতে শুরু করি এরপর থেকে। এই একই ব্যাপার আপনার ক্ষেত্রেও ঘটবে, যদি আপনি এ-বইয়ের মূলনীতিগুলো অনুসরণ করেন।
ফিমেল মাইন্ড
প্রায় প্রতিটা দম্পতির দাম্পত্যজীবনের অশান্তিগুলোর প্রধান কারণ হচ্ছে, পরস্পরের মনস্তত্ত্ব না বোঝা। স্ত্রীর সাথে পরিস্থিতি বুঝে কী আচরণ করতে হবে, বোঝে না স্বামী। আবার স্বামীর সাথেও কোন পরিস্থিতিতে কী ব্যবহার করতে হবে, বোঝে না স্ত্রী। এভাবে সূচনা হয় দূরত্বের। দিনে দিনে গড়ায় বহু দূর…।
অথচ এই না বোঝার প্রধান কারণ হলো, জেনেটিকভাবে নারী ও পুরুষের মধ্যে পৃথক পৃথকভাবে যে মনস্তত্ত্ব ও মানবসত্তা কাজ করে, উভয়েরই সে ব্যাপারে কোনো জ্ঞান না থাকা। এই বইটিতে মূলত পুরুষদেরকে স্ত্রী-জাতির মনস্তত্ত্ব বোঝাতে চেষ্টা করেছেন আরবের প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও গুণী লেখক আদহাম শারকাভি।