দুজন দুজনার
এক ছাদের নিচে একত্রে অনেক বছর বাস করেও কখনও সখনও সঙ্গের মানুষটিকে নতুন লাগে….
এই যে নতুন বিনিসূতোয় সম্পর্কের নতুন মেলবন্ধন, তা কি একশব্দে ব্যক্ত করা যায়?
এমন কিছু চমকে ওঠা, থমকে দেয়া, আবিরমাখা, আবেশছোঁয়া আর ঘোরলাগানো গল্প নিয়ে মাকতাবাতুল আযহারের উপহার ‘দুজন দুজনার’।
খোঁপার বাঁধন
‘প্রদীপ্ত কুটির’ বইয়ের সেকেন্ড সিক্যুয়েল হলো ‘খোঁপার বাঁধন’। প্রদীপ্ত কুটির ছিলো মাহির-লাফিজার সংসার জীবনের সূচনা। তরুণ দম্পতি একজন আরেকজনকে সুন্নাহর আলোকে শুধরে দেয়, সুন্নাহর আলোয় তারা ঘর আলোকিত করতে চায়।
প্রদীপ্ত কুটিরে প্রাধান্য পেয়েছে পরিবার। পরিবারের গণ্ডি পার হলে সমাজ। ‘খোঁপার বাঁধন’ পরিবারের গণ্ডি থেকে বের হয়ে সমাজটাকেও দেখতে চেয়েছে। মাহির-লাফিজার পাশাপাশি সমাজের চরিত্রগুলো কেমন, কিভাবে সেই চরিত্রগুলো সুন্নাহর আলোয় আলোকিত হতে পারে, তা দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। একজন মসজিদের ইমাম কিভাবে সমাজ গঠনে ভূমিকা পালন করতে পারেন, গ্রামের একজন মুরব্বি কিভাবে একটি কুপ্রথা বন্ধ করতে উদ্যোগ নিতে পারেন, সামাজিক উদ্যোগ কিভাবে বড়ো গুনাহ থেকে বিরত রাখতে পারে এরকম কিছু আইডিয়া শেয়ার করা হয়েছে ‘খোঁপার বাঁধন’ বইয়ে।
বাংলাদেশে ইসলামের ব্যাপারে যেসব প্রশ্ন উঠে, সেগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ হলো সাংস্কৃতিক প্রশ্ন। ‘ইসলাম বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে খাপ খায় না’ বা ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি ইসলামের কারণে কলুষিত হচ্ছে’ এরকম কথা অনেকেই বলে থাকেন। ভার্সিটিতে পড়াবস্থায় মাহির-লাফিজা এমন কথা শুনেছি। স্বামী-স্ত্রী গল্প করতে করতে সংস্কৃতি নিয়েও কথা বলেন। তারা দেখাতে চান উপমহাদেশের সংস্কৃতিতে মুসলিম প্রভাব কিভাবে সাদরে গ্রহণ করা হয়েছিলো। তারা কথা বলেন উপমহাদেশের সংস্কৃতিতে পোশাকের বিবর্তন নিয়ে।
সংস্কৃতির পাশাপাশি মাহির-লাফিজা সাহিত্য নিয়েও কথা বলেন। সাহিত্যকে কিভাবে বিচার করবো, সাহিত্য বিচারের মাপকাঠি কী হওয়া উচিত সেটা নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন, সাহাবীদের সাহিত্যচর্চার আলোকে তারা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের সমাজ-সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় তরুণ-তরুণীরা নিজেদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে কিভাবে ইসলামকে সামনে রেখে জীবনযাপন করতে পারে, তার একটি কল্পিত গাইডলাইন ‘খোঁপার বাঁধন’।
আদর্শ পরিবার সিরিজ
পরিবার আমাদের প্রথম পাঠশালা। আমাদের নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ অর্জনের সবুজ কানন। মা-বাবা এবং পরিবারের বড় সদস্যরা হলেন আমাদের প্রথম শিক্ষক। যে শিক্ষা আমরা পরিবার থেকে পাই, জীবনভর তা-ই লালন করি এবং জীবনপাথেয় হিসেবে তা-ই ধারণ করি। কীভাবে একটি পরিবারকে আদর্শ পাঠশালা হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তা-ই নিয়ে আমাদের ‘আদর্শ পরিবার সিরিজ’।
এই সিরিজে সন্তান গড়ার কৌশল, শিশুদের সমস্যা ও তার প্রতিকার, সন্তানের বয়ঃসন্ধিকালের মনস্তত্ব ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলাপ উঠে এসেছে। বাদ পড়েনি সন্তানকে বইমুখী করার কৌশলও। শিশুদের কচিমনে জ্ঞান ও উৎকর্ষের সুপ্ত বীজ প্রোথিত করতে প্রতিটি মা-বাবার উচিৎ ‘আদর্শ পরিবার সিরিজ’-এর পাঠগুলো রপ্ত করে নেওয়া এবং বাস্তব জীবনে এসব অভিজ্ঞতার যথাযথ প্রয়োগ করা।
সিরিজটি রচনা করেছেন আরবের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আব্দুল কারিম বাক্কার হাফিযাহুল্লাহ। বইগুলোর বিষয়বস্তু ও বর্ণনাশৈলী এতটাই চমকপ্রদ যে পাঠকমাত্রই মুগ্ধ হবেন।
যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন
ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্র, আর্থ-সামাজিক, সব বিষয়ে ইসলামের রয়েছে সুনিপুণ দিকনির্দেশনা। তেমনি পরিবার বিষয়ে ইসলাম দিকনির্দেশনা দিয়েছে। একটি মজবুত, আন্তরিক এবং পরস্পর বোঝাপড়া ও সহানুভূতিশীল মুসলিম পরিবার নির্মাণ করার তাগিদ দেয় ইসলাম। এমন মুসলিম পরিবার—যা পরিচালিত হয়- শ্রদ্ধা, ভালবাসা, সম্মান, অঙ্গীকার, সুখ, মানসিক প্রশান্তির মাধ্যমে। যার স্লোগান হবে—ধর্ম হল আন্তরিকতা। যার লক্ষ্য হল—সন্তানদের সঠিক শিক্ষা দেয়া। যার ভিত্তি হল—কুর’আন, সুন্নাহ এবং সালাফদের নাসিহা। যার প্রেরণা হল—তাদেরকে বিচার দিবসে আহ্বান করে বলা হবে-
“তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিনীগণ সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর। স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হবে; সেখানে রয়েছে সবকিছু, অন্তর যাচায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয়। সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে।” (সুরা যুখরূপ : ৭০-৭১)
যার আদর্শ হবে—রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবাগণ এবং তাঁর অনুসারীগণ।
এ ক্ষেত্রে স্বামীর করণীয় কী, কীভাবে সে তার পরিবারকে ইসলামের আলোয় আলোকিত করবে? কীভাবে স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক আরও নিবিড় করবে, ভালোবাসা সদা জাগুরুক রাখবে, সন্তানদের ইসলামের শিক্ষায় দীক্ষিত করবে, ইত্যাদি বিষয়ে আলোচিত বইটি।
দ্য পাওয়ারফুল ওয়াইফ
এই বইটিতে বৈবাহিক সফলতার সত্যিকারের গল্প রয়েছে, যেখানে সফল স্ত্রীরা তাদের বৈবাহিক জীবনকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। একজন পাঠক তার বৈবাহিক জীবনকে কীভাবে ভালোবাসায় পরিপূর্ণ করতে পারেন, সেই দিক-নির্দেশনা ধাপে ধাপে আলোচনা করা হছেন।
লরা ডয়েল নিজেই বৈবাহিক জীবনে সমস্যায় পড়েছিলেন। পরিস্থিতি একসময় এতই তিক্ত হয়েছিল যে, তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদের উপক্রম হয়। কিন্তু তিনি বিবাহ বিচ্ছেদ চাচ্ছিলেন না। তাই বিচ্ছেদ এড়াতে যে সব নারী এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিবাহিত জীবনে সুখী, সে সব নারীদের সাথে কথা বলা শুরু করেন। ওই সব নারীদের সুখী হওয়ার পরামর্শ, পদ্ধতি তাঁকে অবাক করে দেয়।
সেই সব পরামর্শ থেকে লেখিকা চমৎকার ছয়টি দক্ষতা বা কৌশল আবিষ্কার করেন। যেগুলো তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদের আশঙ্কা দূর করে বৈবাহিক জীবনে উচ্ছ্বাস ও আবেগ ফিরিয়ে আনতে ব্যাপাক সাহায্য করে। লরা ডয়েল বিশ্বজুড়ে নারীদের সাথে তাঁর সেই গোপন কৌশলগুলো শেয়ার করেছেন। ফলে সেই গোপন কৌশল ব্যবহার করে হাজার হাজার স্ত্রী তাদের বৈবাহিক সম্পর্ককে চমৎকারভাবে রক্ষা করেছেন। সেই দক্ষতাগুলো যদি আপনিও আয়ত্ত করতে পারেন, তাহলে আপনি—
নিজের বৈবাহিক সম্পর্ক ঠিকঠাক করতে পারবেন। ঝামেলামুক্ত দাম্পত্য জীবন উপহার পাবেন। আপনার প্রতি স্বামীর ভালোবাসা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। স্বামীর কাছ থেকে আপনি বেশি সময় পাবেন।