ষাট দশকে এই বাংলায় সার্কাসশিল্পের যে বিকাশ ঘটেছিল এবং তার সঙ্গে জড়িত শিল্পী কলাকুশলীদের জীবন ও জীবিকাÑ তাদের হাসি, আনন্দ, প্রেম ও বেদনার পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাস। একটা কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায় হচ্ছে তখন যাত্রা পালায় পুরুষেরা নারী সেজে অভিনয় করলেও সার্কাসে কিন্তু সুশ্রী সুন্দরী মেয়েরাই সার্কাসের রিং-এ এসেছে ও ট্রাপিজের খেলায় দর্শকদের মাতিয়েছে। যুগের দাবীতে এই সার্কাসও হয়ে ওঠে প্রতিযোগিতামূলক। খেলোয়াড়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নতুন খেলা আবিষ্কার করে এই শিল্পকে আরও সমৃদ্ধি করে। এই প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে যে বিশাল পুঁজির প্রয়োজন তাতে অনেক সার্কাস দলই ধীরে ধীরে লুপ্ত হতে থাকে। অর্থের কাছে আবেগের সম্পর্কও যেমন ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ে, তারই হতাশা আর বেদনায় পরিসমাপ্তি ঘটেছে এই উপন্যাসে। পটু খেলোয়াড় আর ট্রাপিজের তুখোর মেয়েরা নিজেদের অস্তিত্বের কারণেই এক দল ছেড়ে যোগ দেয় অন্য দলে। মূলত শিল্প হচ্ছে মধ্য গগনের সূর্য-পূজারী। এই সত্য অমোঘ কিন্তু বড় বেদনার। এই সত্যের অন্বেষণই ‘বকুল বনের পাখি’।