কবি খালেক বিশ্বাস কয়েকদিন আগে এখানে এসেছিলেন। পকেটে একগুচ্ছ রং ঝলসানো কাগজ, তাতে আনাড়ি হাতে আঁকাবাঁকা লাইনে ছোটবড় অক্ষরে বিভিন্ন সময়ের সঞ্চয় কয়েকটি বাক্য বা বাক্যাংশ, সেগুলোকে সংশোধন করে একটি সুষম কাহিনী বানাবার চেষ্টার চিহ্নসহ ঊর্ধ্বাংশে অবশ্যম্ভাবী কুঁজ নিয়ে সিগারেটের রাংতায় দু'ভাজ করে লেখা ঠিকানা অনুসরণ করে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন এখানে। পৌঁছেই বলেছিলেন অনেক কষ্ট করে তাকে এখানে আসতে হয়েছে; বিশেষত নিয়মহীন হোল্ডিং নাম্বার এবং অপরিচ্ছন্ন সরু গলি তার স্বাভাবিক মেজাজটিকেই বিগড়ে দিয়েছে। তার ওপর কুয়াশাদীর্ণ সন্ধ্যা এবং মৌসুমি শীতের তীব্রতা ভ্রমণক্লান্তিকে বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। দরজা খোলার পর কক্ষে ঢুকে কাঁধ থেকে শততালি চটের ব্যাগটি নামিয়ে দাড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে তিনি অপ্রশস্ত কাঠের খাটিয়ার ওপর বসে হাঁফ ছাড়েন।