সাজেদার জীবনে দুঃখের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তটা পাকাপোক্ত হয়ে গিয়েছিল সেই শৈশবকাল থেকেই। জীবনের প্রারম্ভে মাত্র দশটি বছর সুখের ছোঁয়া সে পেয়েছিল বটে। তবে তা ছিল আষাঢ়ের বর্ষণমুখর দিনের শুরুতে ঝকঝকে রোদের এক ঝলক দেখা পাওয়ার মতোই। সে, মা-বাবা আর দাদি, তাদের এই চতুষ্টয় সংসারে সাজু ছিল ত্রিকৌণিক বন্ধনের কেন্দ্রবিন্দু। বিত্তের অভাব থাকলেও তাদের জীবনে সুখ আর শান্তির কমতি ছিল না কখনই।
সাঁঝের আলো-আঁধারিতে জন্মেছিল বলে দাদি তার নাম রেখেছিল সাজেদা। সাজেদার নামটাও মা-বাবা আর দাদির মুখে হয়ে গিয়েছিল ত্রিধারায় ব্যঞ্জনাময়। দাদি তাকে সাজেদা নামে কমই ডাকত। ডাকত বুবু বলে। মা ডাকত সাজু আর বাবা তো তাকে সাজু-মা ছাড়া অন্য নামে ডাকত না কখনই।