সাইকোলজিস্ট রীমার সাথে দেখা করতে এসেছে এক সুশ্রী তরুণী। কথোপকথনের মাঝে মেয়েটির ছোঁয়াচে হাসি যেন রীমাকেও স্পর্শ করল। সে বহুদিন পর হাসছে।
হাসি থামার পরে রীমা প্রশ্ন করল, "আপনি প্রথম কবে আপনার বোনকে দেখেছেন?"
"আপনি কীভাবে জানলেন একাধিকবার দেখেছি?"
"মৃত বোনকে দেখার মাঝে যে একটা অস্বাভাবিকতা আছে সেই ব্যাপারটা আপনি জানেন। একবার দেখলে আপনি চোখের ভুল বলে ব্যাপারটাকে উড়িয়ে দিতেন। বেশ কয়েকবার ঘটার পরেই আপনি এখানে এসেছেন।"
"আমি আপুকে প্রথম দেখি সেদিন শরতের সন্ধ্যাবেলায়। বাড়ির সামনে শিউলি গাছ ঝেপে ফুল এসেছিল। হালকা হাওয়া বইছে। জানালার বাইরে খসখস শব্দ হলো। বাড়ির পেছনে একটা বাগান আছে। আমি ভেবেছি বেড়াল ঢুকেছে। তাই ভেবেই জানালায় চোখ রেখেছিলাম। আপুর উকিল সেদিন এসেছিলেন উইল পড়ার জন্য। বাসায় ছিলেন জাহিদ ভাই, মোহতেশাম আংকেল আর আমি।"
"জাহিদ ভাই কে? আর উইল পড়ার সময় মোহতেশাম আংকেল কেন এসেছিলেন?"
"জাহিদ ভাই আপুর হাজব্যান্ড। মোহতেশাম আংকেল উইলের বেনিফিশিয়ারি ছিলেন।"
"ইন্টারেস্টিং! মোহতেশাম আংকেল বেনিফিশিয়ারি ছিলেন কেন?"
"উনি পরিবারের কেউ না হয়েও পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। আপু বলেছিলেন যদি কখনো দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তবে যেন মোহতেশাম আংকেল আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হন।"
"ওনার অভিনীত শেষ চলচ্চিত্রের নাম কী ছিল?"
"বৃষ্টির রং হয়ে যাবে নীল।"