পড়ন্ত বিকেল।
সূর্যাস্তের পূর্ববর্তী এমন পড়ন্ত বেলায় যখন গ্রামের সমস্ত ছেলেমেয়েরা একত্র হয়ে হইচইয়ে ব্যস্ত আর তাদের নিজ নিজ দক্ষতা প্রকাশে খেলায় মগ্ন হয়ে আছে, যখন তাদের এলাহি হইচইয়ে সবুজ ঘাসে আবৃত বিলের এপাশ দর্শকবিহীন আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠছে, তখনো এমন দুরন্ত বেলায় চিন্তিত হয়ে আলাওল কবিতার ছন্দ মেলাতে ব্যস্ত রয় হিজল গাছের গোঁড়ায় মোটা শেকড়ে বসে। সামনে গ্রামের সমবয়সীরা এদিক- ওদিক ছোটাছুটি করে আর আলাওল কী এক মনোযোগে ওপরে তাকিয়ে আকাশ দেখে ।
আকাশের মেঘ ও নিথর হয়ে আসা আলো অনুভব করে সে ভাবুক হয়ে কী যেন ভাবে, আবার আশপাশে চারদিকেও তাকায় সে, তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে আর সে ছন্দের জাদুতে তার হাতে থাকা সাদা খাতায় কিছু একটা লেখতে চেষ্টা করে, তার মন ও মনোযোগ তখন কবিতার খাতায় শ্বেত রঙে ডুবে গিয়ে কল্পনা সওয়ার হয় আর তখন উন্মুক্ত বিলের উল্লাসিত ছেলেমেয়েদের হইচইয়ের সীমানা পাড়ি দিয়ে চলে যায় সে ভাবের দেশে। কল্পনার সীমাহীন সেই ভাবের দেশে গিয়ে সে তার মনের মতো প্রকৃতি আঁকতে চেষ্টা করে, চেষ্টা করে মনের মতো কোনো ঘটনা ঘটাইতে।