কুচি কুচি করে ঢেঁকির শাক কেটে তাতে পেঁয়াজ আর রসুন দিয়ে অল্প তেলে ভেজে নিলে এক থালা ভাত গোগ্রাসে খেয়ে নেওয়া যায়। কোম্পানি রেশনে যে-চাল দেয়, তা পেঁয়াজ রসুনের কল্যাণে খেতে মন্দ লাগে না। আকাশ ফরসা হলেই ঝোলা নিয়ে কুলিলাইন থেকে বেরিয়ে নদীর ধারে চলে যেতে কার ভাল লাগে!
এতোয়ারিরও লাগে না। কিন্তু নদীর ধারে পৌঁছলেই প্রথম যে-হাওয়ার ঢেউটা মুখে বুকে আলতো ছুঁয়ে যায়, তাতেই মনে ভাল লাগাটা ঝটপট এসে যায়। ছোট্ট নদী, চওড়ায় বড়জোর ষাট কি সত্তর ফুট, তরতরিয়ে ছুটে যাচ্ছে ডুডুয়া নদীর বুকে মিশে যেতে। সেই নদীর দুই পাড়ে ঢেঁকিশাকের গাছ দঙ্গল বেঁধে রয়েছে। পাতা ছিঁড়ে ছেঁড়া ঝোলায় ভরে ফেলতে হয় ঝটপট। তারপর চারধারে নজর বুলিয়ে নিঃসন্দেহ হয়ে প্রাতঃকতা সেরে জলে ডুব দেয়। এক দই করে পাঁচবার।