মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়টাই যে কখনো এই স্বাধীন দেশে নিজের অস্তিত্বকে এমন বিপন্ন করে তুলবে, এ কথা কে ভেবেছিল একাত্তরে? হ্যাঁ, যুদ্ধের সেই ভয়াবহ দিনগুলোতে প্রতিটি দিনই ছিল মুক্তিযোদ্ধার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ; তাই বলে স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরও ওই পরিচয়টা গোটা জীবনকেই এভাবে এক ভয়ঙ্কর ভূমিধসের মুখোমুখি দাঁড় করাবে? অন্তত শওকত আলী এরকম সঙ্কটের কথা কখনও ভাবেনি। কেন ভাববে? অতি সাধারণ ভাবনার মানুষ সে।
একেবারে সাদামাটা জীবনযাপন তার। এ জীবনে তার যে মহৎ অর্জন ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়, তা নিয়ে বিশেষ আস্ফালন তো দূরের কথা, ন্যায্য গৌরবটুকুও সে ঢাক পিটিয়ে কোথাও প্রকাশ করতে যায়নি। সে কেন ভাববে?
অথচ কেবলমাত্র মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের কারণে সামরিক শাসনামলে চাকরি হারায় শওকত আলী। সরকারি চাকরি নয়। এক কর্পোরেশনে অতি সামান্য চাকরি তার। কতই বা মাইনে! ওতে কারও সংসার চলে! শওকত আলীর দিব্যি চলে যায়। পিছুটান বলতে তেমন কিছুই নেই। দুই ছেলে এক মেয়ের সংসার। ওদের মাও হয়েছে তেমনি ঠাণ্ডা মানুষ। হিসেবী মানুষ। কী যে জাদুকরী কৌশলে স্বামীর এই সামান্য রোজগারে দিব্যি মাস চালিয়ে দেয়। টানাটানি যে থাকে না তা নয়;