‘লিচু-চোর’ অথবা ‘ঝিঙে ফুল’ অথবা ‘খুকি ও কাঠ্বেরালি’। বাঙালির শিশুর বোলে নজরুলের কী সহজ স্বচ্ছন্দ বর্ণবহুল বিস্তার! তাঁর গতির জোয়ারে, ছন্দের চালে এক লহমায় বদলে গেল ঘুম ভাঙানোর গান। ভোর হলো, দোর খুলে খুকুমণি জাগল। সংকল্পের খেয়াল-খুশিতে কিশোর মন মুক্তির আনন্দে দেখল স্বপ্ন, বদ্ধ ঘরের কোণ থেকে বের হয়ে বিশ্বজগৎকে জানার।
শিশুদের জন্য লেখাগুলোর অধিকাংশ কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন ১৯১৮ থেকে ১৯২৬ সালের মধ্যে। বিদ্রোহী কবির বুকের ভেতরেও কোথায় যেন লুকিয়ে ছিল এক অবাক শিশু। যে প্রশ্ন করে, শুধায়—কোথায় ছিলাম আমি? স্বরের বৃত্তে, অবারিত উল্লাসে, অফুরন্ত আনন্দে নবাগত বাঙালির কাছে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে রইলেন। বরিত হলেন প্রতিভার এক বিস্ময়কর কীর্তিরূপে, যিনি জড়তা ও মৃত্যু থেকে নিজ মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে শিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলেন। সহজের, সাম্যের ছন্দে মোড়ানো কল্পনার রথে সওয়ার হয়ে দুঃসাহসিক অভিযানে সঙ্গী করে নিয়েছিলেন শিশু-কিশোরের নবীন দলকে, নতুনের গান গাইতে গাইতে। শুধু কবিতার ছন্দে নয়, ‘পুতুলের বিয়ে’র মতো নাটিকায়, হাসির গানে কাজী নজরুল ইসলামের হাত ধরে খুদে উৎসুক শিশুমন সন্ধান পেল নির্মল আলোকের।