গভীর হাওরের ভেতর একটা গ্রাম। দ্বীপের মতো জেগে থাকা সেই গ্রামের নাম এলংজুরি। ওই গ্রামের প্রাইমারি ইশকুলের প্রধান শিক্ষক জ্ঞানদ চন্দ্র। তিনি স্থানীয় মানুষ নন। তাঁর বাড়ি হাশিমপুর। ইশকুলের চাকরির জন্যে তাঁকে থাকতে হয় এখানে। অদ্ভুত এই হাওরের জীবন। বছরের পাঁচ মাস ডুবে থাকে পানিতে। ভীষণ বৃষ্টি হয় যখন। আর পাহাড় থেকে নেমে আসে ঢল। তখন যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন হয় নৌকা। শীতের পাঁচ মাস ধানে ভরে যায় হাওর। চলাচল করতে হয় পায়ে হেঁটে। মাঝে দুই মাস বড় কঠিন সময়। পানি শুকাচ্ছে কিন্তু শুকায়নি। স্থানীয় মানুষেরা বলেন, দোটানার সময়। না-নাও, না-পাও। তখন না যায় নৌকা চালানো। না যায় পিচ্ছিল কাদা থিকথিকে পথে হাঁটা।