প্রিমিয়াম কোয়ালিটি।
বাংলা উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাহিনি প্রধান ধারা থেকে বেরিয়ে এসে এক নতুন ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরি করেন, যা সাহিত্যজগতে তোলে তুমুল আলোড়ন। তিনি বাংলা উপন্যাসের ধারাকে নতুন এক পথে ধাবিত করেন। ব্যক্তি চরিত্রের সঙ্গে মানসিক টানাপোড়েনকে তিনি নতুনভাবে উপস্থাপন করেন আর সেটাই চোখের বালি উপন্যাসটির সার্থকতা। এখানে আরেকটি বিষয় পরিলক্ষিত হয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উপন্যাসের নানা ধারাক্রমে নারী ও পুরুষ চরিত্রগুলোকে বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, কোথাও কোথাও তিনি প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বিষয়গুলোর উপর কঠোরতার সাথে উপস্থাপন করেছেন।
চোখের বালি বাংলা ভাষার প্রথম ‘মনস্তাত্ত্বিক সামাজিক’ উপন্যাস, আরেক অর্থে উপন্যাসটি একটি পারিবারিক উপন্যাসও বটে। এই উপন্যাসটির মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যে উপন্যাসের এক নবধারার সূচনা ঘটে। আর তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিশীলতার একটি মাইলফলক হিসেবেও বিবেচনা করা হয় চোখের বালি উপন্যাসটিকে।