“শব্দ দিয়ে মানুষ কত কিছু তৈরি করে,
যেমন কমলকুমার মজুমদার...
শব্দ দিয়ে মানুষ কত কিছু তৈরি করে,
যেমন অমিয়ভূষণ মজুমদার...
শব্দ দিয়ে মানুষ কত কিছু তৈরি করে,
যেমন ইমতিয়ার শামীম...”
স্বজনের স্মৃতিমৃত্তিকা খুঁজতে গিয়ে বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের গল্পের স্মৃতিসন্ধানী এক মানব কমলকুমার, অমিয়ভূষণ আর ইমতিয়ার শামীম থেকে শব্দ তুলে তুলে একটি ঘটনা, যে ঘটনার মধ্যে একটি ইতিহাস, যে ইতিহাসের মধ্যে একটি দুঃখ, যে দুঃখের মধ্যে একটি মৌনতা, তা ফের মুখর করে চরাচরে পৌঁছে দিতে চেয়েছিল।
তারও অনেক আগে রচিত হয়েছিল এক সুসমাচার, আহমদ ছফা পড়েছেন একটি লেখা ‘একটি আশ্চর্য উপন্যাস’, যেটির ‘লেখকের কোনও পক্ষপাত নেই। একেবারে অবজেক্টিভ। এই জিনিস বুড়ো হাবড়া লেখকদের মধ্যে কস্মিনকালেও ছিল না।’ আমরা জানতে পারি সুশান্ত মজুমদারের কাছ থেকে ‘ছোটগল্প চর্চার শুরুতেই ইমতিয়ার শামীম সজ্ঞান পাঠকের মনোযোগ দখল করেন’, জানতে পাই তাঁর গল্প ‘মজাখোর বন্যরুচির পাঠক নয়, কেবল অধ্যবসায়ীর কাছে অনিবার্যভাবে পাঠ দাবি করে’। কবি টোকন ঠাকুর লেখেন, ‘ইমতিয়ার শামীমের দেখার ক্ষমতা, লেখার ক্ষমতা নির্ণয় করে প্রভূত বিস্ময়ে অপার মুগ্ধতা’ এবং সে লেখা ‘পানপাত্রে তুরীয় লোভন জল, যেন গোত্রের বাইরে, একা-একাই দাঁড়ানো একটি দল।’
ইমতিয়ার শামীমের চরাসংবেগ শৈশব হত্যার গল্প, গ্রামীণ শিক্ষিত মধ্যবিত্তের নগর অভিযাত্রার গল্প। আমাদের শিক্ষার দৈন্য, স্থবিরধিতা এবং নির্মল শৈশবের ওপর সেই শিক্ষা ও গ্রামীণ সমাজের অভিঘাত নিয়ে এর বিস্তার। আমরা নিশ্চিত, পাঠক আবারও এক নতুন মন্তব্য, নতুন মুগ্ধতা, নতুন চিন্তার দিগন্ত তৈরি করতে পারবেন এ লেখা পড়ার পরে, এবং তা তাঁরা তৈরি করুক।