কোনো জাতিকে যদি বলা হয়-তোমরা বড় হও, তোমরা জাগ-তাতে ভালো কাজ হয় মনে হয় না। এক একটা মানুষ নিয়েই এক একটা জাতি।
পল্লীর অজ্ঞাত-অবজ্ঞাত এক একটা মানুষের কথা ভাবতে হবে। মানুষকে শক্তিশালী, বড় ও উন্নত করে তোলার উপায় কী? তাকে যদি শুধু বলি-তুমি জাগো-আর কিছু না তাতে সে জাগবে না। এ উপদেশ বাণীর সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত আছে। এইটে ভালো করে বোঝা চাই।
আবার বলি-কোনো জাতিকে যদি বাহির হতে বলি-বড় হও তাতে কাজ হবে না। মানুষকে এক একটা করেই ভাবতে হবে। একটা লোক জাতির সহানুভূতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে হাজার হাজার টাকা তুরস্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি যখন নগণ্য আর্ত মানুষের বেদনা কাহিনী গাইতে গাইতে ভিক্ষার ঝুলি স্কন্ধে নিয়ে পথে বের হতেন তখন প্রত্যেক মানুষের প্রাণ সহানুভূতি, বেদনা ও করুণায় ভরে উঠত। এই ব্যক্তি কিছুদিন পর তার এক নিরন্ন প্রতিবেশীর সর্বস্ব হরণ করতে দ্বিধাবোধ করেন নাই।
মানুষের এই ভাবের জাগরণ ও বেদনা-বোধের বেশি মূল্য আছে বলে মনে হয় না। কোনো জাতির যখন পতন আরম্ভ হয়, তখন দেশসেবক যে কেউ থাকে না, তা নয়। স্বাধীনতার মমতায় কেউ প্রাণ দেয় না, তা বলি না-যারা দেয় তাদের মন ভিতরে ভিতরে অন্ধ হতে থাকে। জাতিকে খাঁটি রকমে বড় ও ত্যাগী করতে হলে সমাজের প্রত্যেক মানুষকে বড় ও ত্যাগী করতে হবে। কী উপায়ে?