বিয়ের মতো অনবদ্য একটি আশীর্বাদ দুঃসহ অভিশাপে পরিণত হতে পারে যদি বিয়ের আগের ও পরের কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করা না হয়। কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সাজানো দাম্পত্য জীবন শুধু স্বামী-স্ত্রী উপরই নয় বরং গোটা সমাজের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ বয়ে আনে। বিয়েকে পার্থিব জীবনের সুখ ও পরিপূর্ণতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার ক্ষেত্রে প্রধান বিষয়গুলো এই বইয়ে আলোচিত হয়েছে। একজন আন্তরিক পাঠক বইটি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করলে সুখী ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপনে সক্ষম হবেন, ইন-শা আল্লাহ।
একটি গল্প শুনেছিলাম। দাম্পত্য অশান্তির তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এক পিতা তার পুত্রকে ওসিয়াত করছিলেন যে, ‘বাবা আর যা-ই করো না কেন জীবনে বিয়ে করবে না’। ছেলে বাবাকে বলেছিল, ‘জ্বি বাবা, আপনি একটুও দুশ্চিন্তা করবেন না, আপনার এই ওসিয়াত নিশ্চয়ই আমি আপনার নাতীদের কাছে পৌঁছে দিয়ে যাব’।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, হিসাবরক্ষক—এমনকি কেরানি হওয়ার জন্যও কিছু না কিছু শেখানো হয়; কিন্তু স্বামী-স্ত্রী হওয়ার জন্য কোনো বিশেষ শিক্ষা নেই। অথচ আমরা আর যা কিছুই হই বা না হই, স্বামী-স্ত্রী হওয়ার আবশ্যকতা প্রায় শতভাগ।
দাম্পত্য জীবনকে মোটেই হাল্কাভাবে দেখলে চলবে না; কারণ আপনি চান কিংবা না চান এটা আপনার প্রতিটি সকাল, প্রতিটি সন্ধ্যা, প্রতিটি রাতকে প্রভাবিত করবে। আপনার জীবনে সফলতা ব্যর্থতার গতিপথ নির্ধারণে প্রত্যক্ষ ভুমিকা রাখবে।
তাই এই জীবন যারা শুরু করেননি তাদের যেমন এ বিষয়ে জ্ঞান প্রয়োজন, যারা জ্ঞানহীন পথ চলে অনেক দূর এসেছেন ঠিকই, কিন্তু পথ ক্লান্ত-শ্রান্ত করে ছেড়েছে; কিংবা যারা ক্লান্ত হননি, তবে ভবিষ্যতে হতেও চান না তাদের সকলেরই প্রয়োজন। এমন সকলের জন্যই আমাদের এই বই “ভালোবাসার চাদর”।
জন গ্রে – এর লেখা মেন আর ফ্রম মার্স, উইমেন আর ফ্রম ভিনাস বইটি পড়েছিলাম। এটা আমাকে নারী ও পুরুষের পারস্পরিক যোগাযোগ পদ্ধতির ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে একটা ধারণা দেয়। তখন কিছুটা উপলব্ধি হয় যে, জীবন সম্পর্কে নারী ও পুরুষের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিগুলোতে কতটা পার্থক্য বিদ্যমান।
আমি অন্য নারীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি এবং বোঝার চেষ্টা করি—তাদের দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার পেছনে কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তখনো জানতাম না যে, এরই মাধ্যমে আমি আত্মসমর্পণের পথে হাঁটি-হাঁটি-পা-পা করে চলতে শুরু করেছি। পরে এটাই হয়েছিল আমাদের দাম্পত্য জীবনে প্রশান্তি তৈরি করা এবং আমার হারানো আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে আনার মাধ্যম। আজ আমি একজন আত্মসমর্পণকারী স্ত্রী হিসেবে নিজের পরিচয় দিই। একজন নারী হিসেবে যেরকম দাম্পত্য জীবনের স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম, ঠিক সেরকম একটা জীবনই পেতে শুরু করি এরপর থেকে। এই একই ব্যাপার আপনার ক্ষেত্রেও ঘটবে, যদি আপনি এ-বইয়ের মূলনীতিগুলো অনুসরণ করেন।
আমাদের চিকিৎসকদের প্রায় কেউই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক প্রসব দেখেননি। কোনো রোগের প্যাথলজি বোঝার জন্য শরীরের স্বাভাবিক ফিজিওলজি বোঝাটা যেরকম গুরুত্বপূর্ণ, সেরকম লেবারকে তার নিজস্ব গতিতে এগোতে দিতে চাইলে এর প্রাকৃতিক ও আত্মিক দিকগুলো জানাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি না-ই জানি লেবার পেইনের উদ্দেশ্য কী, কীভাবে ঔষধ ছাড়াই এই পেইনের মোকাবিলা করা সম্ভব, তাহলে আমাদের মায়েদের কীভাবে আমরা অনুপ্রাণিত করতে পারব!
এটা সর্বাগ্রে একজন হবু মাকে জানতে হবে, তেমনই জানতে হবে— প্রসব-সহযোগী হিসেবে তার স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে; এরপর তার অন্য সেবাপ্রদানকারীদের—যাদের মাঝে নার্স, মিডওয়াইফ, অবস্টেট্রিশিয়ান বা প্রসূতিবিদ ও শিশুচিকিৎসক-সহ সকলেই আছেন।
যদিও না জানার কারণে অনেক মেয়ের কাছেই লেবার পেইন একটা ভীতিকর ব্যাপার এবং তারা স্বেচ্ছায় সিজারিয়ান ডেলিভারির দিকে ঝুঁকে পড়ছে, তারপরও আমার দেখা অনেক হবু মা-ই এখন আগের চাইতে সচেতন। নরমাল ডেলিভারির প্রতি তারা অত্যন্ত আগ্রহী। তারা লেবার ও এর প্রিপারেশন সম্পর্কে জানতে চায়, নরমাল ডেলিভারি করাতে আগ্রহী—এমন প্রসব সহযোগীর খোঁজও করে। আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই জানার ক্ষেত্রটা খুবই সীমিত। আমি বিশ্বাস করি, বাংলা ভাষায় বইটি এক্ষেত্রে একটি মাইলস্টোন হয়ে থাকবে।
~ ডা. ফাতেমা ইয়াসমিন
এফসিপিএস (অবস্টেট্রিক্স ও গাইনোকোলজি)
পশ্চিমা অনেক দেশেই সন্তান ধারণ ও প্রসব নিয়ে লেখাপড়া বাধ্যতামূলক। এ কারণে ওখানে নরমাল ডেলিভারির হার তুলনামূলক অনেক বেশি। মায়েরাও যথেষ্ট সচেতন ও কো-অপারেটিভ। ডাক্তারদের জন্য এরকম মায়েদের হ্যান্ডল করা অনেক বেশি সহজ। এই বইয়ে আমরা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে প্রেগন্যান্সি, সন্তান জন্মদান বিষয়ে প্রচলিত বিভিন্ন ভুল ধারণা এবং সেগুলোর সমাধান সম্পর্কে যথাসাধ্য আলোচনার চেষ্টা করেছি। সেই সাথে আলচনা করেছি গর্ভকালীন পড়াশোনার গুরুত্ব এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের কিছু জীবনঘনিষ্ট অভিজ্ঞতা।
‘মা’ একটিমাত্র শব্দ। একটি ডাক। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ডাক, সম্মানের ডাক। যে ডাক কেবল নারীদের জন্য। নারীদের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সৃষ্টিকে বিস্তৃত করেছেন। তাই তাঁর কাছে আমাদের কামনা—এই পৃথিবীর প্রতিটি নারীর জীবনে মাতৃত্বের এ যাত্রা যেন সহজ ও নিরাপদ হয়। আমিন।
একটি সন্তানকে শুধু খাইয়ে-পরিয়ে বড় করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। পোষা প্রাণীর ক্ষেত্রে এটা যথেষ্ঠ হতে পারে, কিন্তু মানব-সন্তানের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট নয়। একটি শিশুকে আদর-যত্ন-ভালোবাসা দিয়ে লালন-পালন করতে হয়। সমাজে তার স্থান সম্পর্কে ধারণা দিতে হয়। সাফল্য লাভের উপায়গুলো শিখিয়ে দিতে হয়। তার দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে তাকে সচেতন করে গড়ে তুলতে হয়। প্রতিটি শিশুকেই এ বিষয়গুলো শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন; তবে মুসলিম শিশুদের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা আরও অনেক বেশি, অনেক…। আমাদের এ বইটি আমাদের সন্তান প্রতিপালন ও পরিচর্যা নিয়ে। লিখেছেন মির্জা ইয়াওয়ার বেগ। দুনিয়াকে তিনি ব্যবসায়ীর নির্মোহ চোখে দেখেছেন, ধর্মের নির্ভুল দণ্ডে ব্যবচ্ছেদ করেছেন। অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, উপদেশ দিয়েছেন। কখনও কঠিনভাবে; কখনও কোমলভাবে। উভয়টাই আমাদের কল্যাণের জন্য—সেই জীবন ও এই জীবনের।
প্রত্যেক মাতাপিতাই সুসন্তানের স্বপ্ন লালন করেন যারা বড় হয়ে পরিবার এবং সমাজের জন্য দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আগের তুলনায় শিক্ষিত, ছোট পরিবার এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও এ যুগের মাতাপিতারা সন্তান লালন-পালন নিয়ে অনেক অজানা এবং অচেনা চ্যালেঞ্জের কারণে দিশেহারা অনুভব করেন।
ডিজিটাল প্রযুক্তির অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি এবং সহজলভ্যতার কারণে সামাজিক আবহের যে আমুল পরিবর্তন হচ্ছে যা সিংহভাগ পিতামাতার কাছে কল্পনাতীত মনে হতে পারে। শরীরের সব পূর্নাংগ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে জন্ম গ্রহন করলেও একটি শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশ শুরু হয় ভুমিষ্ঠ লাভের পর থেকে এবং ২০ বছর বয়সের মধ্যে তা পরিপূর্ণতা পায়।
শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে পরিবেশের (পিতামাতার সাথে সম্পর্ক, সামাজিক যোগাযোগ, প্রকৃতির সাথে সংস্পর্শ, বন্ধুবান্ধবের প্রভাব, ডিজিটাল মিডিয়া ইত্যাদি) ভূমিকা রয়েছে যা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। শিশুদের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে (০-৫ বছর) নিউরোলোজিক্যাল কিছু ত্রুটি (যেমন-অটিজম, এডিএইচডি, লিখতে-পড়তে অসুবিধা), থ্যালাসেমিয়াসহ আরো স্বাস্থ্যগত বিষয় সম্পর্কে আমাদের দেশের পিতামাতারা অসচেতন। শিশুর স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিক বিকাশ (০-৬ বছরের চেকলিস্টসহ) নিয়ে বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে যেন পিতামাতারা সচেতন হতে পারেন।
মস্তিষ্ক বিকাশের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়কালে (৯-১৪ বছর) কিশোর-কিশোরীদের ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, আত্মপরিচয়, যৌন পরিপক্বতা ইত্যাদির বিকাশ ঘটে। এই সময়টিতে এলজিবিটি বা ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ, পর্নোগ্রাফি, মাদকাসক্তি, স্ক্রিন (স্মার্টফোন, ডিজিটাল ডিভাইস) আসক্তি, অপর্যাপ্ত ঘুম ইত্যাদি নতুন চ্যালেঞ্জিং ইস্যুগুলো গবেষণালব্ধ তথ্যের মাধ্যমে আলোচনা করে এর মোকাবেলার কৌশল নিয়ে বইটিতে দিক-নির্দেশনা রয়েছে।
বইটি সকল শ্রেনীর পাঠকদের জন্য উপযোগী, বিশেষ করে পিতামাতা, শিক্ষক এবং রিলিজিয়াস স্কলারদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।