দায়ভাগ উপন্যাসের কেন্দ্রে আছে হানুফা। বাচ্চু মণ্ডলের লালসার শিকার হয়ে হানুফা গর্ভধারণ করলে সে লম্পট পিতা বাচ্চু মণ্ডলেরই মেয়ে বিউটির মঙ্গলের কথা ভেবে প্রকাশ করে নি। বাচ্চু মণ্ডল খুন হওয়ার পর অবৈধ সন্তান ধারণের জন্য মৌলানা আবুবকর আর ইব্রাহিমের যোগসাজশে হানুফার বিরুদ্ধে ডাকা তথাকথিত সালিশে হানুফাকে বিলডাকিনি থেকে বিতাড়িত করা হয়।
ওকে আশ্রয় নিতে হয় ভিনগাঁয়ে, ভবানিপুরে, অকৃতদার বারীণ মাস্টারের বাড়িতে। হানুফা একটি পুত্র সন্তানের মা হয়, সমাজ যাকে জারজ বলছে। কিন্তু মায়ের কাছে সন্তান কি অবৈধ হয়? বিবেকবান মানুষ কি একটি মানব শিশুকে লালন না করে পারে? এ গল্পের মূল আকর্ষণ হানুফার সন্তান আদম সুরত। এই শিশু, যে কি-না নিজে ওর স্বীকৃতিহীন জন্মের জন্য দায়ী নয়, সে কি ওর জন্মের আইনগত ও সামাজিক স্বীকৃতি পাবে না?