নীতিবাদী, সাহিত্যসম্রাট ও ঋষি—নানা উপাধিতে বিভূষিত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন সাকুল্যে চৌদ্দটি উপন্যাস। ইতিহাস, অনেকাংশে আবেগ এবং বিস্তর অনৈতিহাসিকতা-মিশ্রিত বয়ান অবলম্বনে। ঔপন্যাসিক বা প্রাবন্ধিক নন, ছিলেন গভীর চিন্তকও। অভূতপূর্ব শিল্পন্যায়ে ফুটিয়ে তুলেছেন সমকালীন সামাজিক সমস্যা, দেশধ্যান ও আদর্শ চিন্তাকে। ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত ‘দেবী চৌধুরাণী’ বঙ্কিমী নাটকীয়তাময়তার চিত্তাকর্ষক এক বৃত্তান্ত। বৃত্তি-প্রবৃত্তির দ্বন্দ্বে-সংকটে, আকস্মিকতার মধ্যে নর-নারীর চিত্তাকর্ষক এক প্রণয়বৃত্তান্ত, পশ্চাৎপটে ভারত পুনরুজ্জীবনের আহ্বান। বাংলা সাহিত্যের আধুনিক রূপশিল্প উপন্যাসের অগ্ররথের সারথির নন্দিত-নিন্দিত ‘আনন্দমঠ’-এর পরবর্তী প্রয়াস ‘দেবী চৌধুরাণী’। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিপীড়নের বিরুদ্ধে ভারতীয় সাধুতা, নিষ্ঠা এবং নিঃস্বার্থতার ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধের লড়াইয়ের আখ্যান। সশস্ত্র সংঘর্ষই স্বাধীনতা জয়ের একমাত্র উপায়—এই বীজমন্ত্র প্রচারের দায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত। স্বাধীনতার পর বন্ধনমুক্তি। বঙ্কিমের সময়কালে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ পূর্ণ পুষ্টি পায়নি, তবু আগ্রহী পাঠকের চেতনায় দেশপ্রেমের বীজ রোপণ করে প্রফুল্ল আর ভবানী পাঠক।